থানার রাঁধুনির মেয়ের বিয়েতে ‘মামা’ হলেন পুলিশকর্মীরা! লক্ষ লক্ষ টাকার উপহারে তাক লাগালো খাকি উর্দির দল

সমাজের চোখে পুলিশ মানেই কঠোর শাসন আর লাঠি। কিন্তু সেই খাকি উর্দির আড়ালেও যে এক সংবেদনশীল ও মমতাময় মন লুকিয়ে থাকতে পারে, তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি হলো রাজস্থানে। জয়পুরের কালওয়াড় থানার সমস্ত পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকরা মিলে তাঁদের থানার রাঁধুনির মেয়ের বিয়েতে যা করলেন, তা দেখে অবাক গোটা দেশ। স্রেফ নিমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে নয়, পরিবারের সদস্য ও ‘মামা’ সেজে বিয়ের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন তাঁরা।
কালওয়াড় থানার দীর্ঘ ১০ বছরের রাঁধুনি হিম্মত কানওয়ার। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে এই থানার পুলিশকর্মীদের অন্ন সংস্থান করাই ছিল তাঁর জীবিকা। কিন্তু তাঁর কাছে এই পুলিশকর্মীরা ছিলেন তাঁর নিজের পরিবারের মতো। গত বছর নভেম্বরে যখন তাঁর মেয়ে যামিনীর বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়, তখন হিম্মতের পাশে এসে দাঁড়ান স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) নবরত্ন ধোলিয়া। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, হিম্মত একা নন, গোটা থানা তাঁর মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নেবে।
কথা রাখলেন তাঁরা। মালিওয়াড়া গ্রামে আয়োজিত বিয়ের আসরে রীতিমতো ব্যান্ড পার্টি নিয়ে শোভাযাত্রা করে পৌঁছন পুলিশকর্মীরা। সেখানে পৌঁছে এসএইচও ধোলিয়া পাত্রীর ঠাকুরদার ভূমিকা পালন করেন এবং অন্যান্য পুলিশকর্মীরা ‘মামা’ হয়ে বিয়ের যাবতীয় প্রথা সম্পন্ন করেন। নেচে-গেয়ে পুরো অনুষ্ঠান মাতিয়ে রাখেন তাঁরা।
তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ছিল তাঁদের উপহার। যামিনীকে আশীর্বাদ স্বরূপ তাঁরা ৬ লক্ষ ২১ হাজার টাকার উপহার তুলে দেন। এর মধ্যে ছিল ৪ লক্ষ ২১ হাজার টাকা নগদ এবং ২ লক্ষ টাকার সোনার গয়না। এখানেই শেষ নয়, নতুন সংসারের জন্য খাট, বিছানা এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও কিনে দেন তাঁরা। পুলিশকর্মীদের এই ভালোবাসা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি মা হিম্মত কানওয়ার। পাত্রপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—পুলিশের এই মানবিক মুখ দেখে আপ্লুত সকলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল রাজস্থান পুলিশের এই ‘দিলদার’ কাহিনী।