থানায় ডেকে জমি লিখে দেওয়ার হুমকি! শান্তনুর ‘আর্শীবাদধন্য’ ১২ ওসির তালিকা তৈরি করল ইডি

কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর এবার নজিরবিহীন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর স্ক্যানারে এবার ১২ জন প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিক। জানা গিয়েছে, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই ১২ জন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মাধ্যমেই চলত জমি দখলের কালো কারবার। অভিযোগ উঠেছে, ব্যবসায়ী জয় কামদারের জমি দখলের নেশায় শান্তনু ওই অফিসারদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন। অসহায় জমি মালিকদের থানায় ডেকে রীতিমতো ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে জমি হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত।

ইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। শান্তনু সিনহা বিশ্বাস শুধুমাত্র অপরাধমূলক কাজেই এই অফিসারদের ব্যবহার করেননি, বরং মোটা টাকার বিনিময়ে তাঁদের পছন্দের থানায় পোস্টিং পাইয়ে দেওয়ারও ব্যবস্থা করতেন। এই ‘ট্রান্সফার-পোস্টিং’ বাণিজ্যের মাধ্যমে কত টাকা লেনদেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। শুক্রবার শান্তনুকে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় ইডি। তাঁদের বিশ্বাস, হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই পুলিশ অফিসারদের নাম ও তাঁদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই ওই ১২ জন অফিসারকে তলব করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তদন্তের স্বার্থে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে অফিসাররা জানিয়েছেন, গ্রেফতারির আগে ফোন থেকে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং চ্যাট মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির সহায়তায় সেই ‘ডিলিট’ হওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। ইডি সূত্রে খবর, শান্তনুর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট উদ্ধার করা গেলেই প্রভাবশালী যোগসূত্রের পর্দা ফাঁস হবে। বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে দশ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুর প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় শান্তনুকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে অসহযোগিতা এবং বয়ানে অসঙ্গতির কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই গ্রেফতারি বর্তমান পুলিশ প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy