থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘাত, চতুর্থ দিনেও তীব্র গোলাগুলি, জেনেনিন সর্বশেষ পরিস্থিতি

থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত বিরোধ রবিবার চতুর্থ দিনেও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যুদ্ধবিরতির আলোচনা সত্ত্বেও, দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে ভারী গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই সীমান্ত এলাকায় কামানের তীব্র শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা আশপাশের অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সংস্থা AFP-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোর থেকেই সীমান্তে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। কম্বোডিয়ার সামরং শহরে কামানের একটানা শব্দ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক ভীতি ছড়িয়েছে। এই শহরটি সীমান্ত থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বিস্ফোরণের শব্দ সেখানে স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছে, যা সীমান্তের ভয়াবহ পরিস্থিতিকেই তুলে ধরছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। তবে রবিবার সকালে নতুন করে গোলাগুলি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে স্থলভাগের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং উত্তেজনা প্রশমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

ঐতিহাসিক বিবাদ এবং ‘প্রেহ বিহার’ মন্দিরের গুরুত্ব
থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত বিরোধ বহু বছর ধরে চলে আসছে। এই বিবাদের মূলে রয়েছে ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির মালিকানা নিয়ে মতানৈক্য। উভয় দেশই এই স্থানগুলির উপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছে। উল্লেখ্য, ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই বিরোধ বিদ্যমান। বিশেষ করে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষিত ‘প্রেহ বিহার’ মন্দিরটি এই বিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) এই মন্দিরটি কম্বোডিয়ার কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিলেও, থাইল্যান্ড সেই সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি মেনে নেয়নি, যা মাঝে মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক সংঘাতের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন যে তিনি কম্বোডিয়া এবং থাইল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং উভয় দেশই অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি চায়। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য মধ্যস্থতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ভারতের যুদ্ধ বন্ধের বার্তা:
ভারত এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই, আমরা চাই থাইল্যান্ড এবং কম্বোডিয়ার মধ্যে লড়াই বন্ধ হোক এবং উত্তেজনা কমুক। এর পর, উভয় দেশেরই আলোচনার মাধ্যমে তাদের মতপার্থক্য নিরসন করা উচিত।” এর পাশাপাশি, থাইল্যান্ডের পর কম্বোডিয়ায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও ভারতীয় নাগরিকদের সীমান্ত এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

এই চলমান সংঘাত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে এর পরিণতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy