থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছেন? মাত্র তিনটি যোগাসনেই দূর হবে শরীরের সমস্ত ক্লান্তি ও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা!

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ—বর্তমান যুগে মানুষের শরীরের প্রতিটি কোষে এক অদৃশ্য ও গভীর প্রভাব ফেলে চলেছে। এর সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে আমাদের গলার কাছে থাকা প্রজাপতির আকৃতিবিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র গ্রন্থি, যাকে আমরা থাইরয়েড নামে চিনি। মানবদেহের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া এবং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করার ক্ষেত্রে এই গ্রন্থিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সামান্যতম অসামঞ্জস্য দেখা দিলেই শরীরে ওজনের আকস্মিক ওঠানামা, মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি, মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন এবং মারাত্মক চুল পড়ার মতো সমস্যাগুলো জাঁকিয়ে বসে। চিকিৎসকদের মতে, ওষুধের পাশাপাশি নিয়মিত কিছু বিশেষ যোগাসনের অভ্যাস থাইরয়েডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই সমস্যার সমাধানে প্রথম এবং অন্যতম কার্যকরী আসনটি হলো ‘হলাসন’ বা প্লাউ পোজ। এই আসনটি করার সময় শরীরের আকৃতি ঠিক লাঙলের মতো দেখায় বলেই এর এমন নামকরণ। হলাসন সরাসরি গলার অংশে মৃদু চাপ সৃষ্টি করে থাইরয়েড গ্রন্থিকে সক্রিয় ও উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করে। এটি করার নিয়ম হলো—প্রথমে একটি পরিষ্কার ম্যাট বিছিয়ে তার ওপর চিত হয়ে শুয়ে পড়তে হবে এবং দুই হাত শরীরের দুপাশে সোজা রাখতে হবে। এরপর গভীর শ্বাস নিয়ে পা দুটি ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলে মাথার পেছন দিকে নিয়ে গিয়ে মাটির ছোঁয়াতে হবে। শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী এই ভঙ্গিতে কিছু সময় থাকার পর ধীরে ধীরে আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
দ্বিতীয়ত, থাইরয়েড গ্রন্থির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ‘মৎস্যাসন’ বা ফিশ পোজ অত্যন্ত ফলদায়ী একটি অনুশীলন। এই আসনটি ঘাড় ও গলার পেশিতে গভীর প্রসারণ ঘটায়, যার ফলে গলার অঞ্চলে রক্ত সঞ্চালন বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক হয়। মৎস্যাসন করার জন্য প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পদ্মাসন ভঙ্গিতে বা পা মুড়ে বসতে হবে। এরপর কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে বুক ও মাথা ওপরের দিকে এমনভাবে তুলতে হবে যাতে পিঠটি ধনুকের মতো বাঁকানো থাকে। তৃতীয়ত, ‘ভুজঙ্গাসন’ বা কোবরা পোজ থাইরয়েড গ্রন্থিতে রক্ত চলাচল বাড়ানোর জন্য আরেকটি দারুণ উপায়। উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে বুক ও মাথা ওপরের দিকে তুলে ঘাড় পিছনের দিকে হেলিয়ে এই আসনটি নিয়মিত করলেই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং শরীর সতেজ থাকে।