ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। দীর্ঘ ১০ দিন পলাতক থাকার পর অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করেছেন মৃতার স্বামী সমর্থ সিং। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রকাশ্যে এল সেই বাড়ির ছবি, যেখানে গত ১২ মে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল ৩৩ বছর বয়সি এই তরুণীকে। CNN-News18-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেই বাড়ির উপরের তলার অংশের ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গত ১০ মে ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে ত্বিশা শর্মার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই ত্বিশার পরিবার তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে। ত্বিশার মৃত্যুর পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সমর্থ সিং আত্মগোপন করেছিলেন। দিল্লি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আর্জি জানালেও, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়। চাপের মুখে পড়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
তদন্তের স্বার্থে শনিবার দুপুরে ভোপালে ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের বাসভবনে পৌঁছান এক পুলিশ আধিকারিক। ওই পুলিশ আধিকারিক জানান, তিনি হাইকোর্টের একটি নোটিস দিতে এসেছেন এবং তা মূলত গিরিবালা সিংয়ের জন্যই। নোটিস পৌঁছে দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত সমর্থ সিংয়ের ভাই সিদ্ধার্থ সিংকে আইনজীবীদের একটি দলের সাথে দ্রুত বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্তের মোড় ফের ঘোরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ত্বিশা শর্মার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন অকথ্য মানসিক নির্যাতন চালাতেন। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দেহের অবকাশ ছিল। পুলিশের দাবি, স্বামী সমর্থ সিংয়ের আত্মসমর্পণ এবং বাড়ির ভেতরকার ছবি হাতে আসায় তদন্তের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে ডিজিটাল প্রমাণ মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ। পুলিশ জানিয়েছে, হাই কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত গিরিবালা সিং ও পরিবারের বাকি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রস্তুতি শুরু করেছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। ভোপালের এই রহস্যমৃত্যু কীভাবে সমাধান হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা। দ্রুত বিচার চেয়ে ত্বিশার পরিবারের সদস্যরা পথে নামারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।





