তোলাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ! বিধাননগরের প্রভাবশালী তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেফতার

বিধাননগর পুরনিগমের রাজনীতিতে বড়সড় ভূমিকম্প! তোলাবাজি, হুমকি এবং জমি দখলের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বিধাননগর পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখাল। শুক্রবার গভীর রাতে বাগুইআটি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। এলাকার অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত সম্রাটের এই গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সূত্রের খবর, সম্রাট বড়ুয়া মেয়র পারিষদ ও তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। রাজনীতির অন্দরমহলে তাঁকে দেবরাজের ‘ডান হাত’ বলেই চেনে সবাই। একসময় সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সম্রাট অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রাজনৈতিক সিঁড়ি বেয়ে কাউন্সিলরের পদে আসীন হয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পাহাড়ও বাড়তে থাকে।

দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং জমির মালিকদের একাংশের মধ্যে সম্রাটকে নিয়ে প্রবল অসন্তোষ দানা বাঁধছিল। অভিযোগ, এলাকায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতেন তিনি। নতুন নির্মাণ কাজ কিংবা জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বহুবার মৌখিক অভিযোগ জমা পড়লেও, এই প্রথমবার পুলিশ সরাসরি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৬টা নাগাদ বাগুইআটি এলাকা থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জেরা চালানোর পর বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাতেই তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পরই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে শাসকদলের ছাতার তলায় থেকে সম্রাট এলাকায় যে দাপট দেখিয়েছেন, তাতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শনিবার ধৃত কাউন্সিলরকে বারাসাত আদালতে তোলা হচ্ছে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালত চত্বরে কী সওয়াল-জবাব হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই জালিয়াতি ও তোলাবাজির চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না। কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পর এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ বাসিন্দাদের একাংশ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশই এখন ঠিক করবে সম্রাট বড়ুয়ার রাজনৈতিক ও আইনি ভবিষ্যৎ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy