‘তোলাবাজি ও কাটমানি’র অভিযোগ, তারকেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়ের বিরুদ্ধে পথে নামলেন নিজ দলের কর্মীরা

সাধারণত বিরোধীরা শাসকের বিরুদ্ধে পথে নামে। কিন্তু এবার পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার তারকেশ্বরে দেখা গেল এক ভিন্ন রাজনৈতিক ছবি। একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে নিজেদের দলের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়ের বিরুদ্ধে ডানকুনি-আরামবাগ রাজ্য সড়কের নাইটা মালপাহার পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পিয়াসারা এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল নেতা ও কর্মীরা।

বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ:

বিক্ষোভকারী তৃণমূল নেতা ও স্থানীয়দের মূল অভিযোগ ছিল, তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়ের মদতে এলাকায় দিনের পর দিন:

  • তোলাবাজি,

  • সরকারি প্রকল্পে কাটমানি, এবং

  • নিজ দলের কর্মীদের ওপর পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে।

এদিনের বিক্ষোভে অত্যাচারিত সাধারণ মানুষ এবং নাইটা মালপাহার পুর পঞ্চায়েতের একাধিক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যও সামিল হন।

আবাস যোজনায় কাটমানির অভিযোগ:

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ির টাকা পেলেও তাঁরা এখনো পর্যন্ত নিজের জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করতে পারেননি। কারণ, বিধায়ক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতাদের টাকা দিতে পারেননি তাঁরা। হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে টাকা না দিলে বাড়ি নির্মাণ করা যাবে না।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা সাইদুল মোল্লা অভিযোগ করেন, “কিছু জমি মাফিয়া জোর করে লোকের জমি দখল করছে। কুড়ি বছরের পুরনো পাকা বাড়ি দখল করতে চাইছেন। বাড়ির কোনও কাজ করতে চাইলেই কাটমানি চাইছে।”

পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার:

বিক্ষোভকারীরা সাত দফা দাবি নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। পুলিশ সমস্ত অভিযোগ যথাযথভাবে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তৃণমূল নেতা কর্মীরা অবরোধ তুলে নেন।

অন্যদিকে, এই বিষয়ে তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায়কে ফোনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে, তিনি সমস্ত প্রশ্ন শুনেই ফোন কেটে দেন এবং কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।