বাঁচবে টাকা, জমবে আনন্দ! ১.৮৯ কোটি পরিবারকে বছরে দুই ফ্রি এলপিজি সিলিন্ডার উপহার উত্তরপ্রদেশ সরকারের

আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য এক বিরাট ও মাস্টারস্ট্রোকমূলক কল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র (PMUY) আওতাভুক্ত সমস্ত যোগ্য পরিবার এখন থেকে বছরজুড়ে প্রধান দুটি উৎসব—দীপাবলি এবং হোলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলের সুবিধা পাবেন। এই বিশাল সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পটির সফল ও নির্বিঘ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি মোটা অঙ্কের আর্থিক বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের ১.৮৯ কোটিরও বেশি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সিলিন্ডার রিফিলের ভর্তুকি প্রদানের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই যুগান্তকারী ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রান্নার গ্যাসের বর্তমান দাম ও সরকারি ভর্তুকির বিস্তারিত হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে একটি গার্হস্থ্য গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৮৩.৪৫ টাকা, যার মধ্যে কেন্দ্র সরকার ৩৩৫ টাকা ভর্তুকি প্রদান করে। ফলে উপভোক্তাদের পকেট থেকে খরচ হয় মাত্র ৬৪৮.৫৫ টাকা। এরপর বিনামূল্যে সিলিন্ডার উপহার দেওয়ার কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, “উৎসবের মরসুমে এই সুবিধা পাওয়ায় আপনাদের যে টাকা সাশ্রয় হবে, তা দিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আনন্দের সঙ্গে দীপাবলির মিষ্টি এবং প্রদীপ কিনতে পারবেন। এটাই প্রকৃত জনকল্যাণমুখী সরকারের কাজ।” এই জনমুখী মঞ্চ থেকেই পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে গ্যাস সংযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চরম হেনস্তা ও দীর্ঘ লাইনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেসের জমানায় একটিমাত্র গ্যাসের সংযোগ পেতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠত। আর আজ ভারতীয় জনতা পার্টির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার রাজ্যের প্রতিটি দরিদ্র পরিবারের দোরগোড়ায় নিখরচায় গ্যাস সংযোগ পৌঁছে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের এই সমস্ত দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করাকেই প্রকৃত সুশাসন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।গ্যাস সিলিন্ডারের এই বিরাট উপহারের পাশাপাশি আগামী ৭ নভেম্বর রামনগরী অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত হতে চলা বর্ণাঢ্য ‘দীপোৎসব’ নিয়েও নিজের বিশেষ ভাবনার কথা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। খুব শীঘ্রই তিনি নিজে অযোধ্যা সফর করে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় তিনি জানান, অতীতে এই রাজ্যে জাতপাতের রাজনীতি করে সমাজকে কৃত্রিমভাবে বিভক্ত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অযোধ্যার বর্ণাঢ্য দীপোৎসবের সূচনা করে সেই সংকীর্ণ সংস্কৃতির খোলনলচে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আজ জাত-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে সর্বস্তরের মানুষ এই উৎসবে সামিল হন।মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, প্রদীপ হয়তো বিভিন্ন মানুষের ভিন্ন ভিন্ন হাতে জ্বলে ওঠে, কিন্তু তাদের আলোর সেই উজ্জ্বল শিখা সমগ্র সমাজকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। এটিই অযোধ্যার দীপোৎসবের প্রকৃত ও মূল বার্তা। জাতপাতের সংকীর্ণতা সমাজকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে দেয়, কিন্তু আমাদের শেকড় ও শাশ্বত সংস্কৃতিই আবার সেই সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখে। শ্রী অযোধ্যাজির এই দীপোৎসব সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য জীবন্ত উদাহরণ। ২০১৭ সালের আগের সরকারগুলি কেবল ভোটব্যাংক ও জাতপাতের রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং সমাজের এই সাংস্কৃতিক শক্তিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় পদক্ষেপে রামনগরীর এই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে কোটি কোটি দরিদ্র পরিবারকে নিখরচায় সিলিন্ডার উপহার দেওয়া এবং অযোধ্যার দীপোৎসবের মাধ্যমে সামাজিক ঐক্যের ডাক দেওয়ার এই জোড়া কৌশল উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty