রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব যে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কতটা গভীর, তার প্রমাণ যেন আবারও পাওয়া গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায়। একদা দাপুটে এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীর টাকা ফেরত দেওয়ার একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা, যা স্থানীয় স্তরে শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত বিগত বিধানসভা নির্বাচনের সময়কার উত্তপ্ত পরিস্থিতি থেকে। সেই সময় ওই বিজেপি কর্মীকে রাজনৈতিক কারণে হেনস্থার পাশাপাশি, তার কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে কোণঠাসা করা হতো। যদিও সেই সময় প্রশাসনিক বা আইনি কোনো বড় পদক্ষেপ ওই নেতার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোয় পুরো ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা নিজেই ওই বিজেপি কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর এক ঘরোয়া পরিবেশে তিনি আগের নেওয়া সেই অর্থ ফেরত দেন। পুরো ঘটনাটি কেউ মোবাইলে গোপনে রেকর্ড করে রাখেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল নেতা পরম নিশ্চিন্তে বিজেপি কর্মীর হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু তা নিয়ে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যে সুর চড়িয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ভিডিওই প্রমাণ করে যে অতীতে গোসাবায় তৃণমূল কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর শোষণ চালাত। তাদের কথায়, পুলিশি অ্যাকশন এবং প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েই এখন নেতারা পুরনো অপরাধের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ এই ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উড়িয়ে দিতে চাইছেন। দলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত পুরনো এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য পরিকল্পিতভাবে এই পুরনো ভিডিওটি ভাইরাল করা হচ্ছে। তৃণমূল নেতাদের দাবি, সব ঘটনাকেই তোলাবাজির তকমা দেওয়া যায় না, এটি নিছকই এক ব্যক্তিগত বোঝাপড়া হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ছোটখাটো এই ঘটনাগুলোও বড় প্রভাব ফেলছে। শাসকদলের একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পুলিশের ধারাবাহিক অ্যাকশনের আবহেই এই নতুন বিতর্ক তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও কালিমালিপ্ত করল। এখন দেখার, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনার পর দলের সম্মান বাঁচাতে কী ভূমিকা নেয়।





