‘তোমায় ভালোবাসি, বিয়ে করবে?’ বলতেই তরুণীর ‘না’! প্রকাশ্য রাস্তায় যুবকের এমন হাড়হিম করা কাণ্ড কাঁপিয়ে দিল সবাইকে

এক তরফা ভালোবাসার টান এবং সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার খেসারত যে কতটা ভয়ঙ্কর ও প্রাণঘাতী হতে পারে, তার এক হাড়হিম করা ও নৃশংস নজির মিলল। “তোমায় ভালোবাসি, আমায় বিয়ে করবে?”—এক যুবকের দেওয়া এই প্রেমের প্রস্তাবটি স্রেফ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বছর বাইশের এক তরুণী। আর সেই ‘না’ শব্দটাই মেনে নিতে পারেনি ওই বখাটে যুবক। দীর্ঘদিনের জমানো আক্রোশ থেকে প্রকাশ্য রাস্তায় চলন্ত বাস থেকে নামা মাত্রই ধারালো ছুরি দিয়ে ওই তরুণীর গলা কেটে দিল সে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার মহবুবনগর জেলার জাদচেরলা শহরে। এই বর্বরোচিত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত তরুণীর নাম ওয়াই বৈষ্ণবী। তিনি জাদচেরলা শহরেরই একটি বেসরকারি স্কুলে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাজের সূত্রেই আগে হায়দরাবাদের একটি কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় তেজা (২৮) নামের ওই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তাঁর সাধারণ আলাপ-পরিচয় হয়েছিল। তবে বৈষ্ণবী সেই সম্পর্ককে সবসময় সাধারণ বন্ধুত্বের চোখেই দেখতেন।

তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, পরিচয় একটু গভীর হতেই তেজা ওই তরুণীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু বৈষ্ণবী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর থেকেই তেজার মনের ভেতর প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল। সে বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত ওই তরুণীকে অনুসরণ করত এবং নানারকমভাবে হয়রানি করত বলে অভিযোগ। এমনকি সম্প্রতি বৈষ্ণবীর অন্য কোথাও বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পেয়ে তেজা চরম হিংস্র হয়ে ওঠে এবং তাঁকে খুনের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে।

শনিবার বিকেলে কাজ শেষ করে বাস থেকে নেমে যখন বাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন বৈষ্ণবী, তখনই ওত পেতে থাকা তেজা ধারালো ছুরি নিয়ে আচমকা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রকাশ্য রাজপথেই সবার সামনে ওই তরুণীর গলায় গভীর কোপ বসিয়ে দেয় সে। মুহূর্তের মধ্যে রক্তে ভেসে যায় রাস্তা, বাঁচার জন্য ছটফট করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বৈষ্ণবী।

এদিকে এই নৃশংস কাণ্ড দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে ঘাতক যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাড়া করে নাসুরুল্লাবাদ রোডের কাছে তাকে ধরে ফেলে। ক্ষুব্ধ প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযুক্তের হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেয় এবং পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত তরুণী ও গণপিটুনিতে গুরুতর আহত যুবক—দুজনকেই উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বৈষ্ণবীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গণপিটুনির জেরে গুরুতর জখম অভিযুক্ত তেজাও রবিবার সকালে হাসপাতালেই মারা যায়। এক তরফা প্রেমের এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় এখন শোক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy