ট্রাম্পের পরেই চিনে পুতিন! বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে বেজিংয়ে কীসের মহড়া?

বিশ্ব রাজনীতির দুই মহাশক্তি চীন ও রাশিয়ার পারস্পরিক সমীকরণ এবার এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে। আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেজিং সফরের কয়েক দিন কাটতে না কাটতেই এবার চিন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে অফিশিয়ালি এই মেগা সফরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়িয়ে মস্কো ও বেজিংয়ের এই ব্যাক-টু-ব্যাক বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, আগামী ১৯ ও ২০ মে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের এই হাইপ্রোফাইল চিন সফর নির্ধারিত হয়েছে।

কেন হঠাৎ এই মেগা সফর?

কূটনৈতিক মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চিন সফরের পর আমেরিকার সঙ্গে বেজিংয়ের বাণিজ্যিক ও ভূ-রাজনৈতিক আলোচনা কোন দিকে মোড় নিয়েছে, তা সরাসরি শি জিনপিংয়ের কাছ থেকে জানতেই পুতিনের এই আকস্মিক সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আবহে মস্কোর কাছে বেজিং এখন সবচেয়ে বড় ভরসা। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনকে চাপে রাখতে রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত সাহায্য প্রয়োজন চিনের। ফলে মে মাসের এই দুই দিনের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি বা বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত বড় ঘোষণা আসতে পারে।

নভেম্বরেও রয়েছে বড় পরিকল্পনা

ক্রেমলিনের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, মে মাসের এই দ্বিপাক্ষিক সফর ছাড়াও চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আবারও চিনে যাওয়ার কথা রয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের। নভেম্বরে চিনে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা ‘অ্যাপেক’ (APEC) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

পশ্চিমা দুনিয়ার লাগাতার নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানার তোয়াক্কা না করেই পুতিনের এই ঘন ঘন বিদেশ সফর, বিশেষ করে চিনের সঙ্গে দোস্তী মজবুত করার এই কৌশল হোয়াইট হাউসের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy