পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং তেলের বাজারের অস্থিরতা কাটাতে এবার এক অভাবনীয় ‘দ্বি-স্তরীয়’ (Two-Tier) শান্তি পরিকল্পনা পেশ করল ইরান। আমেরিকার সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়া আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তেহরানের এই নতুন কৌশল হোয়াইট হাউসে পৌঁছালেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেজাজ এখনও বেশ চড়া।
ইরানের নতুন ‘পিস ডিল’ কী?
অ্যাক্সিওস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক অভিনব প্রস্তাব দিয়েছেন। তেহরান চাইছে প্রথমে যুদ্ধের আবহ কাটিয়ে স্থায়ী শান্তি এবং হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার করা হোক। এই প্রক্রিয়া সফল হলে তবেই দ্বিতীয় স্তরে গিয়ে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে টেবিলে বসবে তারা। মূলত, আগে অর্থনীতি রক্ষা ও বাণিজ্য স্বাভাবিক করাই ইরানের লক্ষ্য।
ট্রাম্পের মেজাজি জবাব
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো বিশেষ দূত পাঠিয়ে আলোচনার ধার ধারছেন না। নিজের চিরচেনা মেজাজে তিনি সাফ জানিয়েছেন, “১৮ ঘণ্টার বিমান যাত্রা করে আলোচনার জন্য যাওয়ার কোনো মানে হয় না। ইরান আলোচনা করতে চাইলে আমায় ফোন (Call) করতে পারে।” তবে ট্রাম্পের শর্ত একটাই— ইরানকে অন্তত ১০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব অর্থনীতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েল হামলার পর থেকে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। ইরান দাবি করেছে, আলোচনার আগে ওয়াশিংটনকে এই সামুদ্রিক প্রতিবন্ধকতা সরাতে হবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
পরবর্তী গন্তব্য রাশিয়া
আমেরিকার ওপর চাপ বাড়াতে ইরান এবার রাশিয়ার সাহায্য চাইছে। আজই আরাগচি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পাকিস্তান ও ওমানের পর ক্রেমলিনের সঙ্গে এই বৈঠক আমেরিকার ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরির বড় কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্পের ফোনের অপেক্ষায় কি ইরান নতি স্বীকার করবে? না কি পুতিনকে পাশে নিয়ে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করবে তেহরান?





