তেহরানের মসনদে ফাটল? মার্কিন চাপের মুখে কি নতিস্বীকার করছেন ইরানি নেতারা? জানুন আসল সত্য

ইরান কি তবে খণ্ড-বিখণ্ড হওয়ার পথে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং একটি ‘গোপন চিঠি’ ফাঁসের খবরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এখন তোলপাড়। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের শীর্ষ নেতারা এখন নিজেদের মধ্যে “বিড়াল-কুকুরের মতো লড়ছেন”। কিন্তু এই দাবি কি নিছকই রাজনৈতিক চাপ নাকি বাস্তবেই তেহরানের দেওয়াল জুড়ে ফাটল ধরেছে?

সেই ‘গোপন চিঠি’ ও ক্ষমতার অলিন্দে লড়াই
কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন, ইরানের একদল প্রভাবশালী নেতা একটি অত্যন্ত গোপনীয় চিঠি পাঠিয়েছেন দেশটির ভবিষ্যৎ ‘শ্যাডো কিং’ বা সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেইকে। চিঠিতে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে— দেশের ধসে পড়া অর্থনীতি বাঁচাতে আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কারা? শোনা যাচ্ছে, খোদ প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মতো হেভিওয়েটরা এই আলোচনার পক্ষে।

বিপক্ষ কারা? কট্টরপন্থী রক্ষণশীল শিবির এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একাংশ এখনও মনে করে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা মানেই আত্মমর্যাদার বলিদান।

ট্রাম্পের ‘ক্যাট-ডগ’ তত্ত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি
হোয়াইট হাউসে বসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দাবি করছেন যে মার্কিন চাপের মুখে ইরানের নেতৃত্ব দিশেহারা, তখন বাস্তব পরিস্থিতিও বেশ জটিল।

ট্রাম্পের মন্তব্য: “ইরানের নেতারা এখন বিড়াল-কুকুরের মতো লড়াই করছেন। আমরা তাদের এমন এক অবস্থায় ফেলেছি যেখানে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।”

যদিও ইরান সরকারিভাবে এই বিভক্তির কথা অস্বীকার করে আসছে, তবে মুদ্রাস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ভারে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ সরকারের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরমাণু আলোচনা: নাছোড় তেহরান?
সম্প্রতি ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরমাণু ইস্যুতে সরাসরি আলোচনা হলেও তা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। ট্রাম্পের অভিযোগ, “সব পয়েন্টে রাজি হলেও মূল বিষয়ে (পরমাণু) ইরান এখনও অনমনীয়।” মধ্যপন্থীরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে চাইলেও রক্ষণশীলদের আপত্তিতে ঝুলে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ।

উপসংহার
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটিকে সরাসরি ‘পতন’ বলা হয়তো ভুল হবে। তবে ক্ষমতার দুই কেন্দ্র—নির্বাচিত সরকার এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার অনুগামীদের মধ্যে এই দড়ি টানাটানি ইরানকে এক ঐতিহাসিক মোড়ে এনে দাঁড় করিয়েছে। ইরানের এই অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের ফলাফল কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে গোটা বিশ্বের তেলের বাজার ও সামরিক স্থিতিশীলতা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy