ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার বিশ্ব তেলের বাজারে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত কি বিপদে? না কি রাশিয়ার ‘বন্ধুত্বে’ কাটবে তেলের গেরো? এই টানাপোড়েনের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতে তেল মজুত করার হিড়িক নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
কলকাতার চিত্র: আতঙ্ক না কি স্বস্তি? রাজধানী কলকাতায় কি তেলের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে? গ্রাউন্ড জিরো রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। রবীন্দ্র সদন থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার শহুরে এলাকা—সবত্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক। রবীন্দ্র সদনের এক পেট্রোল পাম্প কর্মী ওম প্রকাশ শর্মা সাফ জানালেন, “তেলের কোনো অভাব নেই, মানুষও বাড়তি তেল কিনছে না।” অর্থাৎ শহরে এখনও ‘প্যানিক বায়িং’-এর কোনো চিহ্ন নেই।
জেলাগুলোতে কী পরিস্থিতি? শহর শান্ত থাকলেও মফস্বল ও গ্রাম্য এলাকায় চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। নদীয়ার কৃষ্ণনগর শহরের পেট্রোল পাম্প মালিক প্রতীক দত্ত জানান, শহরে স্বাভাবিক বিক্রি হলেও চাপড়া বা করিমপুরের মতো সীমান্তবর্তী ও ভিতরের এলাকাগুলোতে মানুষ বাড়তি তেল কেনার ঝোঁক দেখাচ্ছে। তবে বীরভূমের বোলপুর বা বর্ধমান টাউনে পরিস্থিতি মোটের ওপর নিয়ন্ত্রণে। গ্রামবাংলার কিছু পকেটে সামান্য বাড়তি চাহিদার খবর মিললেও তা সংকটের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ভারত কি তৈরি? আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানির পথে হাঁটছে। সূত্রের খবর, আগামী ৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার থেকে বড় অঙ্কের তেল কিনতে পারে নয়াদিল্লি। ভারত ও রাশিয়ার এই ‘তেল-কূটনীতি’ বড় ভরসা জোগাচ্ছে মোদী সরকারকে। তেল সংস্থাগুলোও অভয় দিয়ে জানিয়েছে যে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।
সম্পাদকীয় টিপস: ইরান যুদ্ধের আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কোনো গুজবে কান দেবেন না। ভারতের কাছে পর্যাপ্ত তেলের জোগান রয়েছে এবং রাশিয়ার বিকল্প রাস্তা খোলা থাকায় বড় কোনো সংকটের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তাই অযথা পাম্পে লাইন দিয়ে তেল মজুত করার প্রয়োজন নেই।