তেলের দাম আকাশছোঁয়া, অমিল হবে দানাশস্য! ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চরম খাদ্য সংকটের হাহাকার

বিশ্বজুড়ে কি ফের এক দুর্ভিক্ষের ছায়া নামতে চলেছে? ইরানকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা যুদ্ধ উত্তেজনা নিয়ে এবার শিউরে ওঠার মতো সতর্কতা জারি করল বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank)। তাদের সাম্প্রতিক ‘খাদ্য সংকট সতর্কতা’ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সংঘাত চললে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লক্ষ মানুষ অনাহারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যেতে পারেন।

হরমুজ প্রণালী: কেন কাঁপছে বিশ্ব বাজার? ইরান সংলগ্ন হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত সমুদ্রপথ। শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল নয়, সার এবং দানাশস্য সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করে। বিশ্বব্যাঙ্ক স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

জ্বালানির দাম বাড়লে কেন টান পড়বে থালায়? বিশ্বব্যাঙ্ক একে বলছে ‘শক্তি-খাদ্য সংযোগ’। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন:

  • চাষের খরচ বৃদ্ধি: ট্রাক্টর চালানোর ডিজেল থেকে শুরু করে সার তৈরির প্রাকৃতিক গ্যাস—সবই আসে খনিজ তেল ও গ্যাস থেকে। তেলের দাম বাড়লে সরাসরি কৃষিকাজের খরচ বেড়ে যাবে।

  • পরিবহন সংকট: জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কোন দেশগুলো? প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। যারা ইতিমধ্যেই মুদ্রাস্ফীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে পিষ্ট, তাদের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের মতে, এই উত্তেজনা প্রশমিত না হলে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা কয়েক দশক পিছিয়ে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ যুদ্ধ শুধু সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘরেও। ইরান ও আমেরিকার এই রেষারেষিতে ভারত-সহ এশিয়ার একাধিক দেশের খাদ্য ও জ্বালানি বাজার নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এই মুহূর্তে একটি মানবিক বিপর্যয় রুখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy