“আমি এমন একজন মানুষ…”-দলবদলের আসল কারণ ফাঁস করলেন অভিনেত্রী কোয়েল

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধান। তার মধ্যেই জোড়াফুল শিবির ছেড়ে পাকাপাকিভাবে পদ্মফুলে নাম লেখালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা রেখে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি এবং পেয়েছিলেন রাজ্যসভার সদস্যপদও। তবে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পরই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন অভিনেত্রী। সেই পদত্যাগের পরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করলেন কোয়েল। এভাবেই যেন তাঁর রাজনৈতিক বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। কিন্তু ঠিক কী কারণে এই দলবদল?
কেন তৃণমুল ছেড়ে বিজেপিতে কোয়েল?
এদিনের যোগদান পর্বের পর আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে নিজের ছোটবেলার স্মৃতিচারণায় ফিরে যান কোয়েল মল্লিক। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তাঁর মুখে উঠে আসে বাবা তথা প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের কথাও। ছোটবেলার স্মৃতি তুলে ধরে কোয়েল জানান, “ছোটবেলায় বাবাকে খবরের কাগজ খুললেই বলতে শুনতাম— ইশ, এটা কেন এমন হলো! ইশ, ওটা কেন হলো না! কিংবা রাজ্যে আরও কয়েকটা স্কুল হলে ভালো হতো। রাজ্যের বাচ্চারা কেন বাইরে চলে যাচ্ছে, এখানেই কেন কেরিয়ার তৈরি করতে পারছে না?”
রাজনীতিতে আসার আসল কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “রাজনীতি এমন একটা প্ল্যাটফর্ম, যা খবরের কাগজ পড়ে এতদিন যে বিষয়গুলো দেখে ‘ইশ’ বলতাম, সেই জায়গাগুলোতে নিজে দাঁড়িয়ে কিছু করার সুযোগ করে দেয়।” তবে তৃণমূল সরকারের আমলে মনে জমে থাকা সেই সমস্ত আক্ষেপ বা ‘ইশ’-এর কথাগুলো তিনি আর আজ প্রকাশ্যে বলতে চান না, বরং তা উহ্যই রাখতে চান।
কী বললেন প্রধানমন্ত্রী ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে?
রাজ্যসভার সদস্য হতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলে উল্লেখ করে কোয়েল জানান, এই প্ল্যাটফর্ম তাঁকে দেশের মানুষের সেবা ও কল্যাণ করার সুযোগ করে দিয়েছিল। পাশাপাশি, এই যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।
কেন তিনি শেষ পর্যন্ত বিজেপিকেই বেছে নিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে কোয়েল বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তা দেখে আমি সত্যিই খুব খুশি। আর সেই কারণেই আমার বিজেপিতে আসা। আমি এমন একজন মানুষ, যে অন্য কোনো ব্যক্তি বা দলকে নিয়ে কখনো কটূক্তি করি না। আমি শুধু চাই বাংলার মানুষ সবসময় আনন্দে থাকুক।”
সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রোভিটি ও সাইকোলজি নিয়ে মন্তব্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে চলা ট্রোলিং এবং টক্সিসিটি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কোয়েল। তাঁর মতে, এই ধরনের মানসিকতার নেপথ্যে রয়েছে কাজের অভাব। যদি রাজ্যে আরও স্কুল বাড়ত এবং শিক্ষার মান উন্নত হতো, তবে কর্মসংস্থান বাড়ত এবং মানুষ কাউকে ব্যক্তি আক্রমণ করত না।
মনোবিদ্যার (সাইকোলজি) ছাত্রী হিসেবে নিজের মতামত জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা আজ ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন, তাঁদের প্রতি আমার কোনো রাগ নেই। আমি সাইকোলজির স্টুডেন্ট হওয়ায় খুব ভালোভাবেই বুঝি, অন্যকে অপমান করে তারা যে মানসিক শান্তি বা আরাম পান, তার মূলে রয়েছে অন্তর্নিহিত ক্ষোভ। তাঁরা নিজেরা ভীষণ অসুখী বলেই এই ধরনের কমেন্ট করেন।”
ছোটবেলার সমাজসেবামূলক কাজের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে কোয়েল জানান, ছোটবেলায় গরমের ছুটির সময় তাঁর মা তাঁকে মিশনারি অফ চ্যারিটিতে নিয়ে যেতেন। তখন থেকেই তাঁর মনে হতো আসল পৃথিবীটা বাইরে। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার তীব্র ইচ্ছে তাঁর ছোট থেকেই ছিল। পরিশেষে অভিনেত্রী বলেন, “আমি অন্য কোনো দল বা ব্যক্তি সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করতে চাই না। প্রত্যেক দলই নিজেদের মতো করে ভালো করার চেষ্টা করে। কাউকে ছোট বা বড় না করে এটুকু বলব, আজ আমি এমন একটি দলে যোগ দিতে পেরেছি, যেখানে গত কয়েক মাস ধরে মানুষের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য কাজ হচ্ছে।”