২১ সোনাতেই সন্তুষ্ট ভারত! চিনের ‘জুগুও তিজি’ মডেল কি বদলে দিতে পারে দেশের খেলার ভবিষ্যৎ?

শিয়ান গেমসে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য ফের একবার বিশ্ব ক্রীড়ামঞ্চে তাদের শক্তি প্রমাণ করেছে। ১৬৯টি সোনা-সহ মোট ৩৪১টি পদক জিতে তারা সবার শীর্ষে। অন্যদিকে, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ভারতের সমস্ত স্বর্ণপদক একসঙ্গে যোগ করলেও চিনের ধারেকাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ২১টি স্বর্ণপদক সহ মোট ৮৫টি মেডেল নিয়ে ভারত তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকলেও, দুই দেশের সংখ্যার ফারাকটা পাহাড়প্রমাণ। ১৯৮২ সাল থেকে এশিয়াডের শীর্ষস্থান ধরে রাখা চিনের এই সাফল্য একদিনের কোনো ম্যাজিক নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে এক নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত ক্রীড়াযন্ত্র।
চিনের এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের ‘জুগুও তিজি’ (Juguo Tizhi) বা ‘হোল কান্ট্রি সাপোর্ট সিস্টেম’। সাত-আটের দশক থেকে শুরু হওয়া এই মডেল ২০০১ সালে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায়। যেখানে এলিট স্পোর্টস খোদ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ৪ থেকে ৬ বছর বয়সেই প্রতিভা অন্বেষণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বোর্ডিংয়ে তাদের থাকা-খাওয়া থেকে পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করে সরকার। বর্তমানে চিনে স্পোর্টস এরিয়ার সংখ্যা ৫০ লক্ষের বেশি, যা নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিকাঠামো নিশ্চিত করছে।
ভারতের ক্ষেত্রে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ ও ‘টপস’-এর হাত ধরে স্পোর্টস ইকোসিস্টেম এগোলেও খামতি অনেক। যেখানে চিনের ক্রীড়া বাজেট প্রায় ৯,৬০০ কোটি টাকা, সেখানে ভারতের বরাদ্দ মাত্র ৭০০ কোটি টাকা। এছাড়া ডায়েটেও বড় ফারাক রয়েছে। সাঁতারু বেদান্ত মাধবনের মতে, ভারতীয় ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের আধিক্য থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ কম, যা অ্যাথলিটদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। ২০৩০ কমনওয়েলথ ও ২০৩৬ অলিম্পিকের আগে চিনের এই স্পোর্টস মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে তৃণমূল স্তরে জুনিয়র অ্যাথলিটদের জন্য স্পোর্টস সায়েন্স, উন্নত ডায়েট এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।