তৃতীয়ীর সন্ধ্যায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ! শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা

শারদীয়ার উৎসবের আবহে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হলো এক নতুন সমীকরণ। তৃতীয়ার সন্ধ্যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এই আলোচনা চলে, যার পর শোভন চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টভাবেই দলের কাজে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

অভিষেকের সঙ্গে কথোপকথনে মুগ্ধ শোভন
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “অভিষেকের সঙ্গে কথোপকথন সত্যিই প্রগাঢ় এবং উৎসাহদায়ক। আমি মুগ্ধ হয়েছি, ও অনেক পরিণত। দলের কাজে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই নিজেকে ব্যবহার করতে চাই।”

দীর্ঘকাল কলকাতার মেয়র এবং রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শোভন চট্টোপাধ্যায় ২০১৯ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেখানে নিষ্ক্রিয়ই ছিলেন এবং পরে বিজেপি ছেড়ে রাজনীতিতে বিরতি নেন। সম্প্রতি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পুনরায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

‘রাজনীতিতে ফিরতে চাই, এবং তা তৃণমূলেই’
শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজে স্পষ্টভাবে বলেছেন:

“আমি আবার রাজনীতিতে ফিরতে চাই এবং সেটা তৃণমূলেই। কারণ এই দল আমার জন্য শুধু রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, বরং পরিবার এবং রক্তের সম্পর্কও।”

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এটি আমার কাছে শারদ উৎসবের সেরা উপহার। শোভনের সক্রিয়তা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। মমতাদির সঙ্গে শোভনের ভালোবাসার সম্পর্কটা কাছ থেকে দেখেছি। অভিষেকের সঙ্গে তাঁর আন্তরিকতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গিয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শোভনের এই ফিরে আসা তৃণমূলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হবে, বিশেষত কলকাতা ও রাজ্য রাজনীতিতে দলের সাংগঠনিক প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে।