তৃণমূল-বিজেপির মতো কংগ্রেসও খুঁজছে মুখ! কোন পথে নতুন মুখ তুলে আনতে চাইছে বাংলার কংগ্রেস?

পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের সংগঠনকে মজবুত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র নির্বাচনের জন্য তারা ‘মিডিয়া ট্যালেন্ট হান্ট’ কর্মসূচি শুরু করেছে। দীর্ঘ একমাস ধরে এই প্রক্রিয়া চলার পর, এর ফাইনাল রাউন্ডে পৌঁছেছেন ৭০ জন প্রার্থী, যাদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হবে যোগ্য ৫০ জনকে। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর বিধান ভবনে এই চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

প্রদেশ কংগ্রেসের মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টিম এআইসিসি-র কমিউনিকেশন ও আউটরিচ ডিপার্টমেন্টের নির্দেশেই এই কর্মসূচি শুরু করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, রাজনৈতিক সচেতনতা, স্পষ্টবক্তা এবং দলের আদর্শে বিশ্বাসী এমন কিছু মুখ খুঁজে বের করা, যারা রাজ্য জুড়ে কংগ্রেসের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

কেন এই উদ্যোগ?
রাজ্য জুড়ে বুথ স্তরে সংগঠনের দুর্বলতা কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রদেশ কংগ্রেস চাইছে উপযুক্ত মুখপাত্র নিয়োগের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক প্রচার এবং কর্মী নিয়োগের ওপর জোর দিতে। মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী মিতা চক্রবর্তী জানান, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় কংগ্রেসের ন্যাশনাল মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মহিমা সিং, এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক গোলাম আহমেদ মীর এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “যুব সমাজের মধ্যে কংগ্রেসের ইতিহাস ও লড়াইয়ের কাহিনি বিস্তারিতভাবে নেই। তাদের টার্গেট করাটা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।” তিনি জানান, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে দেশের সম্পদ রক্ষায় কংগ্রেসের ভূমিকা নতুন প্রজন্মকে জানানো জরুরি। এই মুখপাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চাইছে কংগ্রেস।

কাদের খুঁজেছে কংগ্রেস?
প্রদেশ কংগ্রেসের সূত্র অনুযায়ী, এই ‘মুখপাত্র সন্ধান’ কর্মসূচিতে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি ও উর্দু— এই চারটি ভাষায় দক্ষতা সম্পন্ন প্রার্থীদের খোঁজা হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়িয়ে চলার জন্য দলের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং যোগ্য ব্যক্তিদেরকেই এই পদে বেছে নেওয়া হবে।

নির্বাচনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে:

কংগ্রেসের মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাস

স্পষ্ট ও স্পষ্টবক্তা হওয়া

ইতিহাস ও রাজনৈতিক সচেতনতা

গণমাধ্যমের জন্য উপযোগী উপস্থাপনার ক্ষমতা

এই কর্মসূচির কো-কনভেনার সুমন রায়চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচিত মুখপাত্রদের কোনো ভাতা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না। যারা কংগ্রেসকে ভালোবাসেন এবং দলের আদর্শে বিশ্বাসী, তারাই এই পদে কাজ করার সুযোগ পাবেন। তাঁদের লক্ষ্য, যারা স্বেচ্ছায় দেশের পাশাপাশি এ রাজ্যেও বুথে-বুথে কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে চান, তাদেরই মুখপাত্র হিসেবে যুক্ত করা।