২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ‘অপমানিত’ হয়ে ফিরে আসার দাবি করলেন ডেরেক ও’ব্রায়েনরা। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কথা বলতে গেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং বৈঠক থেকে বের করে দেন।
অঙ্ক মিলছে না ভোটার তালিকায়? তৃণমূলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় ৬৬ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর, সোমবার রাতে আরও ২৭ লক্ষ নাম বাতিল করা হয়েছে। ফলে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ লক্ষ। শাসক দলের প্রশ্ন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বিচার প্রক্রিয়া বা অ্যাডজুডিকেশনের নামে কেন ছেঁটে ফেলা হলো? বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পিছনে বিজেপি ও কমিশনের ‘গোপন আঁতাত’ রয়েছে বলেও এদিন অভিযোগ তুলেছেন সাকেত গোখলে ও সাগরিকা ঘোষ।
‘অহঙ্কারী’ কমিশনের দিকে আঙুল: নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ক্ষোভ নতুন নয়। এদিন ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আমরা তথ্য-প্রমাণ নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু কমিশনার আমাদের কথা শোনেননি। অশালীন আচরণ করে আমাদের বেরিয়ে যেতে বলেন।” প্রসঙ্গত, এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনের বিরুদ্ধে ‘অহঙ্কার’ ও ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বনাম বাস্তবতা: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চললেও তৃণমূলের দাবি, আদতে এর আড়ালে কারচুপি চলছে। এই ৯১ লক্ষ ভোটারদের ভাগ্য কী হবে এবং তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই ঘটনার পর দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভও দেখান তৃণমূল প্রতিনিধিরা।





