তৃণমূল ছেড়ে এনডিএ-র পথে ২০ সাংসদ! সংসদীয় রাজনীতিতে বড় চমক, দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির রেশ কাটিয়ে ওঠার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল। দলত্যাগী ২০ জন সাংসদ ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-এর ব্যানারে সংগঠিত হওয়ার পর এবার লোকসভায় তাঁদের নতুন অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, এই নতুন রাজনৈতিক ব্লকের নেতৃত্ব দিতে চলেছেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
সংসদে নতুন ব্লকের কাঠামো
পুরানো তৃণমূলের সংসদীয় কার্যপদ্ধতির আদলেই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দল সাজানো হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, লোকসভায় দলের নেতৃত্ব দেবেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এনসিপিআই-এর মুখ্য সচেতক (Chief Whip) হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এবং ডেপুটি লিডার হিসেবে শতাব্দী রায়কে মনোনীত করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সোমবার এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও রণকৌশল নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক ও আইনি জট
আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। ১৯ জুলাই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে বৈঠকে ডেকেছেন। এই বৈঠকেই তাঁদের সংসদীয় মর্যাদা এবং লোকসভায় আসন বিন্যাসের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও এনসিপিআই লোকসভার নথিভুক্তিকরণে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি, তবুও স্পিকারের আশ্বাসে সাংসদরা তাঁদের অবস্থান নিয়ে নিশ্চিত। একই দিনে সংসদের সর্বদলীয় বৈঠক রয়েছে, যেখানে এই ২০ জনের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও এনডিএ-র সাথে সমীকরণ
নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী এনসিপিআই বর্তমানে একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হলেও, আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী এনডিএ জোটে ভিড়েছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লক্ষ্য এবং নীতিকে সামনে রেখেই কাজ করতে চান। তবে সাংসদদের দাবি, তাঁরা সরাসরি বিজেপির পতাকাতলে যোগ দিচ্ছেন না, বরং লোকসভায় ‘স্বতন্ত্র বিরোধী দল’ হিসেবেই নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখবেন।
এই ঘটনাপ্রবাহকে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বৃহত্তম পালাবদল হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই যে ঠিক কতটা গভীরে পৌঁছেছিল, এই বিদ্রোহী সাংসদদের এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ঘটনা তা আবারও প্রমাণ করল। সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের এই ২০ জনের নতুন রাজনৈতিক অবস্থান বিরোধী পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলবে এবং বাদল অধিবেশনে তাঁরা কী ভূমিকা পালন করেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।