তৃণমূল ছাড়লেন ২০ সাংসদ! এনসিপিআই-এর হাত ধরে নরেন্দ্র মোদীর জোটে সামিল বিদ্রোহীরা?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে রবিবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সাক্ষী থাকল দেশ। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে কার্যত এক বড়সড় ভাঙনের রূপ নিল। দলের বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ঘোষণা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত ২০ জন লোকসভা সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনা শুধু তৃণমূলের ভিতকেই কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

বিদ্রোহী সাংসদদের এই গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা তৃণমূলের মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভায় তাঁদের এই অবস্থানের ফলে দলত্যাগ বিরোধী আইন সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো সহজ হতে পারে। স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই বিদ্রোহী সাংসদদের পক্ষ থেকে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁরা লোকসভায় তৃণমূলের ব্লক থেকে আলাদা হয়ে বসার অনুমতি চেয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দাবি, তাঁরা এখন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থে মোদী সরকারের সহযোগিতাকেই অগ্রাধিকার দেবেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শান্তনু দে-র প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, দলের ভেতরের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা তিনি সরাসরি জানতেন না, বরং সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারেন। তবে এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তিনি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দল বড় হলে এবং জাতীয় পর্যায়ে কাজের পরিধি বাড়লে তিনি খুশিই হবেন। শান্তনু দে বলেন, “আমি দলের উন্নতির জন্য সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি এই সাংসদরা এনসিপিআই-এর ছাতার তলায় আসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এনডিএ-র সঙ্গে কাজ করতে চান, তবে আমরা তাঁদের স্বাগত জানাব।”

তিনি আরও জানান, এনসিপিআই-এর সভাপতি এই বিষয়টি দেখভাল করছেন। খুব শীঘ্রই তিনি এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য এবং পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে একটি প্রেসমিট করবেন। শান্তনু দে-র মতে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে ত্বরান্বিত করতে এই যোগদান এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিদ্রোহ এবং যোগদানের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। বিশেষ করে লোকসভায় ২০ জন সাংসদের এই দলবদল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এনডিএ-র শক্তিকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই পুরো বিষয়টি নিয়ে এনসিপিআই নেতৃত্ব এবং বিদ্রোহী সাংসদদের মধ্যে আলোচনার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ঘটনা কতখানি প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy