ভোট যত এগোচ্ছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে তিলোত্তমার রাজপথ। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ জমা দেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট প্রশ্ন, “কমিশন যদি একজন প্রার্থীকেই নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে সাধারণ ভোটারদের সুরক্ষার গ্যারান্টি কে দেবে?”
আক্রান্ত প্রিয়াঙ্কা: ট্যাংরা থেকে ধাপা, হিংসার খতিয়ান
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে ও তাঁর কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তাঁর দাবি:
রবিবার: ট্যাংরা থানার রিফিউজি এলাকায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। অভিযোগ জানিয়েও কাজ না হওয়ায় শেষমেশ কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁকে উদ্ধার করে।
সোমবার: তপসিয়া এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এলাকা ঘিরে ফেলে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্রধারী দুষ্কৃতীদের উপস্থিতিও ছিল বলে দাবি প্রিয়াঙ্কার।
মঙ্গলবার: ধাপায় প্রচারের সময় মহিলাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, আগে থেকে পুলিশকে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পুলিশ ও কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
বিজেপি প্রার্থীর নিশানায় ছিল রাজ্য পুলিশও। তিনি বলেন, “পুলিশের সামনেই তৃণমূলের গুন্ডারা ঘুরছে, অথচ কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উল্টে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।
‘ডামি’ প্রার্থীর এজেন্টে নজরদারির দাবি
এন্টালি কেন্দ্রে এবার ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রিয়াঙ্কার আশঙ্কা, এর মধ্যে অনেক ‘ডামি’ প্রার্থী রয়েছেন যাদের এজেন্ট হিসেবে আদতে তৃণমূলের ‘গুন্ডারা’ বুথে ঢোকার পরিকল্পনা করছে। তাই নির্দল বা অপরিচিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বিষয়ে কমিশনকে কড়া হওয়ার আবেদন জানান তিনি।
এক নজরে পশ্চিমবঙ্গের লড়াই
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ২,৯২৬ জন প্রার্থী লড়ছেন।
প্রথম দফা: ১৫২টি আসনে ১,৪৭৮ জন প্রার্থী।
দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল): ১৪২টি আসনে ১,৪৪৮ জন প্রার্থী।





