তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙন! এবার সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই নেত্রীর ইস্তফা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্তফা হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছিল। সূত্র অনুযায়ী, গত রবিবারই কাকলি ঘোষ দস্তিদার বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাঁর ইস্তফা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল সেই পদে তাপস চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেয়। এই সিদ্ধান্ত সম্ভবত সাংসদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে গতকাল। তৃণমূলের মৌখিক বারণ থাকা সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে কল্যাণীতে আয়োজিত প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন কাকলি। এই বৈঠক শেষ হওয়ার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের জানান, কাকলি তাঁকে বলেছেন, “এতদিন পর স্বাধীনতা পেলাম!” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সেই ঘটনার পরদিন সকালেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন বারাসতের সাংসদ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের পর থেকেই সমীকরণ বদলাতে থাকে। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাঁকে ফের পুরনো মডেলে ফেরত পাঠানোর পরই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কাকলির সংঘাত প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সাংগঠনিক স্তরে কোণঠাসা হয়ে পড়ার কারণেই তিনি ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছিলেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার কি বিজেপি শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন? গতকাল শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথন নতুন রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। শাসকদলের মুখপাত্ররা এই ইস্তফাকে ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, বারাসতের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাংসদের এই পদত্যাগ যে তৃণমূলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, কাকলির এই ইস্তফার পর বারাসতের দলীয় সংগঠন আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত থাকে।





