তৃণমূলের অন্দরে ‘ক্যু’-এর চেষ্টা! দলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগে ঋতব্রতসহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে FIR

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ এবার পৌঁছাল পুলিশের দোরগোড়ায়। দলের নাম ও প্রতীক অননুমোদিতভাবে ব্যবহার এবং জালিয়াতির অভিযোগে একঝাঁক বিদ্রোহী নেতার বিরুদ্ধে কালীঘাট এবং নিউটাউন থানায় জোরালো অভিযোগ দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনের নেতৃত্বে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং বিপ্লব মিত্রের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং মিথ্যা নথিপত্র তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মূল বিবাদের সূত্রপাত ২২ জুন, যেদিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের উদ্যোগে একটি ‘জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি’ গঠনের ঘোষণা করে। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই নতুন কমিটিতে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রাখা হয়নি। এর বদলে অরূপ রায়কে সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পরামর্শদাতা’ বা মেন্টরের ভূমিকা গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দলীয় গঠনতন্ত্র মেনেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তাঁরা জেলা ও রাজ্য স্তরে সমান্তরাল সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলবেন।

এই ঘটনাকে ‘ বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তৃণমূলের প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, দলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বকে দুর্বল করার লক্ষ্যে এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, বিদ্রোহী নেতারা দলের নাম ও প্রতীকের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের এই বিভাজন বা সমান্তরাল কোনো গোষ্ঠীকে কখনোই গ্রহণ করবে না। বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষও এই পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দাবি করছে, তারাই ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে বাদ দিয়ে কমিটি গঠন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেন্টরের প্রস্তাব দেওয়া—পুরোটাই দলের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের বহিঃপ্রকাশ। এই অস্থিরতায় দলের ৪৪০ কোটি টাকার তহবিল এবং সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ এখন অবৈধ মিটিং, ইলেকট্রনিক বার্তার অপব্যবহার এবং পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এই বিদ্রোহের প্রভাব দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে কেমন পড়বে, তা নিয়ে চিন্তায় শীর্ষ নেতৃত্ব। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি শীঘ্রই মুখপাত্রদের প্যানেল তৈরির ঘোষণা দেওয়ায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে দলবদল এবং আনুগত্যের এই খেলায় শেষ পর্যন্ত কার হাতে দলের রাশ থাকবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ। পুলিশি তদন্ত এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।