তৃণমূলের অন্দরের লড়াই প্রকাশ্যে: দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফিরহাদ-ঋতব্রত বনাম কুণাল ঘোষ

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের গৃহযুদ্ধ আজ এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ ইএম বাইপাসের ধারে অবস্থিত তৃণমূল ভবনে এসে পৌঁছান ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের একাধিক বিধায়ক ও নেতা। তাঁরা কার্যত কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন এবং গেটে নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেন। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টা উপস্থিতি জানিয়ে সেখানে হাজির হন কুণাল ঘোষ এবং তাঁর অনুগামী নেত্রীরা।
কী ঘটেছে তৃণমূল ভবনে? সূত্রের খবর, সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান ও আখরুজ্জামানের মতো নেতারা দলবল নিয়ে তৃণমূল ভবনে উপস্থিত হন। দলের অন্দরের বিবাদ এখন নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। গত কয়েক দিন ধরেই দলের প্রতীকের দাবি নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। সেই আবহেই আজ সন্ধ্যায় তাঁরা কার্যালয়ে এসে অরূপ রায়ের নাম সম্বলিত নতুন ব্যানার টাঙিয়ে দেন।
কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া: খবর পাওয়া মাত্রই সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তৃণমূল ভবনে এসে পৌঁছান কুণাল ঘোষ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জয়া দত্ত, উপাসনা চৌধুরী ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে কুণাল ঘোষ তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন, “কারও কারও হয়তো দিনের আলোয় আসার সাহস নেই। তাই সন্ধের অন্ধকারে এসে যা যা করার, সেটাই করছে।” তিনি আরও বলেন, “এটা তৃণমূলের পার্টি অফিস। যারা আজ এসেছেন, তারাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীকেই নির্বাচিত। কিন্তু তাঁদের এই আচরণ দলের কর্মীদের আহত ও ক্ষুব্ধ করছে।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি: কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করতে চান না, বরং আইনি দিকগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দলীয় কার্যালয়ের এই দখলদারি ও পাল্টা উপস্থিতির ঘটনা পরিষ্কার করে দিল যে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন আর গোপন নেই। বাইপাসের ধারের এই অফিস এখন দুই শিবিরের ক্ষমতার দড়ি টানাটানির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনে দুপক্ষই তাদের বক্তব্য রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার আগেই এই কার্যালয় দখলের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।