চিন-পাকিস্তান সীমান্তে নজর! আধুনিক মারণাস্ত্র ও প্রযুক্তি কিনতে ৫২ হাজার কোটি বিনিয়োগ ভারতের

পূর্ব সীমান্তে চিনের বাড়বাড়ন্ত এবং পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের অব্যাহত প্ররোচনা—এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সেনার রণসজ্জা আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার পথে এক বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রায় ৫২,০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও অস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর হাতে আসছে যা: বৈঠকে আধুনিক যুদ্ধের সবকটি ক্ষেত্র মাথায় রেখে অস্ত্র ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কিছু সংযোজন হলো:

  • হ্যামার (HAMMER) মিউনিশন: ফ্রান্সের সাফরান প্রযুক্তিতে ভারতে উৎপাদিত হতে যাওয়া ৬০০টি ‘হ্যামার’ প্রিসিশন-গাইডেড এয়ার-টু-গ্রাউন্ড মিসাইল কেনা হচ্ছে। এই বিধ্বংসী অস্ত্রগুলো রাফাল ও এলসিএ তেজাস যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি নৌবাহিনীর ‘রাফাল মেরিন’-এও যুক্ত হবে। চুক্তি মূল্য প্রায় ২,৪০০ কোটি টাকা।

  • দেশীয় অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল (MP-ATGM): ভারত ডাইনামিকস লিমিটেডের উৎপাদিত ১০০টি লঞ্চার ও ২,৩০০টি ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহ করা হবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ২,৬০০ কোটি টাকারও বেশি।

  • ভার্বা (Verba) ভি-শোর‍্যাডস: রাশিয়ার প্রযুক্তিতে আদানি ডিফেন্সের সহায়তায় ভারতে তৈরি হতে যাওয়া এই অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইগলা ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ হিসেবে কাজ করবে।

  • অন্যান্য প্রযুক্তি: এছাড়াও কামাকাজ়ি ড্রোন, ড্রোন ডিটেকশন সিস্টেম, সফটওয়্যার ডিফাইনড রেডিও এবং স্করপেন ক্লাস সাবমেরিনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও কৌশলগত গুরুত্ব: এই অস্ত্র সংগ্রহের সিংহভাগই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে ভারতে উৎপাদিত হবে। হ্যামার মিসাইল থেকে শুরু করে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল—সবই ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় তৈরি হবে। ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাত যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনই বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (CDS), সেনাপ্রধান এবং নৌপ্রধানের উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গালওয়ান সংঘর্ষের পর জরুরি ভিত্তিতে যে প্রযুক্তির প্রয়োজন অনুভব করেছিল ভারতীয় বাহিনী, এবার সেগুলোকে নিয়মিত অস্ত্র ভাণ্ডারের অংশ করে নেওয়া হচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে ভারত যে কোনো প্ররোচনার মুখে জবাব দিতে সদা প্রস্তুত, এই ৫২ হাজার কোটির বিনিয়োগ তা আবারও প্রমাণ করল।