মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে চরম অস্থিরতা। ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে শুরু হওয়া হামলা-পাল্টা হামলার জেরে গোটা অঞ্চল এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, আর বিশ্ব দেখছে এক নতুন সংঘাতের জন্ম।
ইরানের রকেট বৃষ্টিতে কেঁপে উঠল ইসরায়েল
শনিবার রাতে ইসরায়েলের দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই হামলায় আটজন নিহত এবং ১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বিশেষ করে জেরুজালেম এবং তেল আবিব লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহু বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোরের মধ্যে ইরান থেকে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শনিবার রাতে তেল আবিবের আকাশে বহু ক্ষেপণাস্ত্রের ঝলক দেখা গেছে। ইসরায়েলের শক্তিশালী ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখে দিলেও, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিব এবং জেরুজালেমের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। রবিবার ভোর থেকে তেল আবিব ও জেরুজালেমে অনবরত সাইরেন বেজেছে, যা সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় রক্তপাত ইরানে
অন্যদিকে, ইসরায়েল ইরানের তেলের ভান্ডার লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশে পরিচালিত এই হামলায় ইরানে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত এবং ৩২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে তেহরানের একটি ১৪ তলা আবাসনে ২০ শিশু সহ ৬০ জন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক খবরও পাওয়া গেছে। ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সদর দপ্তর এবং পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যা ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই নেতার অনড় অবস্থান: সংঘাতের আগুন আরও তীব্র
এই সংঘাতের মধ্যে উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বই নিজেদের অবস্থানে অনড়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যতদিন প্রয়োজন ততদিন সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।” অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা খামেনি ইসরায়েলকে “কঠোর জবাবের জন্য প্রস্তুত থাকার” হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরান হাইফা সহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে, আর ইসরায়েল ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও সামরিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ: দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা
দুই শক্তিধর দেশের এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাত বন্ধের জন্য বারবার আহ্বান জানালেও, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।





