মাছে-ভাতে বাঙালির পাতে এবার রাজনীতির কড়া ঝোল! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে এবার বড় ইস্যু হয়ে উঠল ‘মাছ’। হলদিয়ার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভিযোগ তুললেন, মাছ চাষে বাংলা পিছিয়ে পড়েছে। পাল্টা পানিহাটি ও মিনাখাঁ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গর্জন— “আগে মিথ্যে বলা বন্ধ করুন।”
মোদির তোপ: “মাছ আসছে বিহার থেকে” বৃহস্পতিবার হলদিয়ার জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও রাজ্য সরকার মৎস্য উৎপাদনে ব্যর্থ। মোদির কথায়:
“গত ১১ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হলেও পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে। বাংলায় মাছের চাহিদা মেটাতে বিহার বা অন্য রাজ্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের ‘পিএম মৎস্য সম্পদ’ যোজনার নাম বদলে রাজনীতি করছে, যার ফল ভুগছেন মৎস্যজীবীরা।”
বিজেপি শাসিত পড়শি রাজ্য বিহার যে মাছ চাষে বাংলার চেয়ে কয়েক গুণ এগিয়ে, সেই তুলনাও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
মমতার পাল্টা হুঙ্কার: “আগে নিজের রাজ্য সামলান” প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিনাখাঁ ও পানিহাটির সভা থেকে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদির অভিযোগ নস্যাৎ করে তিনি বলেন:
ইলিশে স্বাবলম্বী: “আগে ইলিশের জন্য বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। এখন ডায়মন্ড হারবারে গবেষণার মাধ্যমে বাংলাতেই প্রচুর ইলিশ হচ্ছে। এখন আর হায়দরাবাদ থেকে মাছ আনতে হয় না।”
আমিষ বিরোধিতার খোঁচা: মোদিকে লক্ষ্য করে মমতা বলেন, “আপনি তো রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশে মাছ খেতেই দেন না। বিহারে মাছ হয় বলছেন, সেখানে তো আপনি লোকেদের মাছ খেতেই দেন না! পার্টি কানে কানে যা শেখাচ্ছে, তাই বলছেন।”
** দ্বিচারিতার অভিযোগ:** মমতা আরও অভিযোগ তোলেন যে, বিজেপি দেশের বাইরে মাংস রফতানি করলেও দেশের ভেতরে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করার রাজনীতি করছে।
নেপথ্যে কোন সমীকরণ? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার ৯৯ শতাংশ মানুষই আমিষাশী। বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘আমিষ বিরোধী’ তকমা থাকায় এবার সচেতনভাবেই মৎস্য চাষকে ইস্যু করে সেই ভাবমূর্তি ভাঙতে চাইছেন মোদি। অন্যদিকে, বাঙালির খাদ্যরুচিতে কেন্দ্রের ‘হস্তক্ষেপ’ নিয়ে পাল্টা আবেগ উসকে দিচ্ছেন মমতা।
নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে শেষ পর্যন্ত বাঙালির প্রিয় ‘মাছ’ কার পাতে ভোট নিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।





