তুচ্ছ কারণে পৈশাচিক কাণ্ড! ২০ টাকার বচসায় প্রকাশ্যে খুন যুবক, ফিল্মি কায়দায় পুলিশি এনকাউন্টারে ঘায়েল দুষ্কৃতী

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলার শালিমার গার্ডেন এলাকা থেকে মানবতাকে কলঙ্কিত করার মতো এক পৈশাচিক ও মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর সামনে এসেছে। যেখানে মাত্র কুড়ি টাকার একটি সামান্য বচসা নিমেষেই এক যুবকের তাজা প্রাণ কেড়ে নিল। হত্যাকাণ্ডের পর গা ঢাকা দেওয়া অভিযুক্তকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এক রোমহর্ষক পুলিশি সংঘর্ষের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই এনকাউন্টারে পুলিশের পাল্টা গুলিতে অভিযুক্তের পায়ে জখম হয়েছে, যা গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯শে আগস্ট শালিমার গার্ডেন থানার আওতাধীন বিক্রম এনক্লেভ এলাকায় ২৩ বছর বয়সী মুশতাক এবং ২০ বছর বয়সী সমীর ওরফে গাট্টুর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য এসেছে যে, এই সম্পূর্ণ বিবাদের মূল কারণ ছিল মাত্র ২০ টাকা। এই অতি সামান্য ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে মেজাজ হারিয়ে ফেলে অভিযুক্ত সমীর। সে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালায় মুশতাকের পেটে ও শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল অংশে।
রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া মুশতাককে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে স্থানীয় রাজীব গান্ধী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। মুশতাকের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকাহত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত একটি হত্যা মামলা রুজু করে এবং পলাতক অভিযুক্তকে ধরতে চিরুনি তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
খুনের ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সমীর পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে সে শালিমার গার্ডেন এলাকার আশেপাশেই কোথাও আত্মগোপন করে আছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পুরো এলাকায় ব্যারিকেড ও নাকা চেকিং কড়া করে দেয়। তল্লাশির এক পর্যায়ে ডিএলএফ রোড দিয়ে একটি কেটিএম বাইকে করে এক যুবককে দ্রুতগতিতে আসতে দেখা যায়। পুলিশ তাকে থামার সংকেত দিলে সে বাইকের গতি বাড়িয়ে দিয়ে টেলিফোন এক্সচেঞ্জের কাছের একটি নির্জন রাস্তার দিকে পালানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ দল সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধাওয়া করে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। নিজেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামনে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও আটকা পড়া বুঝতে পেরে অভিযুক্ত সমীর চরম ধৃষ্টতা দেখায়। সে তার কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল বের করে সরাসরি পুলিশ দলকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায় এবং সেখান থেকে চম্পট দেওয়ার ফন্দি আঁটে। আত্মরক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখতে পুলিশ বাধ্য হয়েই নিয়ন্ত্রিত ও পালটা গুলি চালায়। এই সংক্ষিপ্ত পুলিশি সংঘর্ষে অভিযুক্ত সমীরের বাম পায়ে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে সে বাইকসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, আর তখনই পুলিশ দল দ্রুত তাকে পাকড়াও করে। আহত অভিযুক্তকে চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধৃত অভিযুক্তকে দিল্লির সীমাপুরি এলাকার বাসিন্দা সমীর ওরফে গাট্টু হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি দেশি অবৈধ পিস্তল, বেশ কিছু তাজা ও ব্যবহৃত কার্তুজ এবং একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক পুলিশি জেরায় জানা গেছে যে, ধৃত সমীরের বিরুদ্ধে এর আগেও শালিমার গার্ডেন থানায় একাধিক ফৌজদারি ও অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া চোরাই মোটরসাইকেলটির প্রকৃত উৎস কোথায় এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বড় অপরাধ চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে ধৃতকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।