তিহাড় জেলের অন্দরে চরম আতঙ্ক! খুন ও হামলার ভয়ে কাঁপছে আফতাব পুনাওয়ালা, আদালতের কড়া নির্দেশ!

দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া নৃশংস শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের (Shraddha Walkar Murder Case) মূল অভিযুক্ত আফতাব আমিন পুনাওয়ালা (Aftab Poonawala) এখন নিজেই দিন কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্কে। তিহাড় জেলের (Tihar Jail) চার দেওয়ালের মধ্যে তাকে লাগাতার খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলের অন্য বন্দিদের রোষানলে পড়ে নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আফতাব। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্তের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত কঠোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির সাকেত আদালত।

ছুঁচ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখ চিরে দেওয়ার হুমকি!

সাকেত আদালতে দায়ের করা অভিযোগে আফতাব দাবি করেছে যে, গত দশ দিন ধরে তিহাড় জেলের কয়েকজন বন্দি তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। শুধু তা-ই নয়, তাকে ভয় দেখাতে ধারালো অস্ত্র এবং ছুঁচ দিয়ে মুখ চিরে দেওয়ার মতো শারীরিক নিগ্রহের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। আদালতের সামনে এমন ভয়ংকর ঘটনার কথা তুলে ধরে সে পাঁচজন নির্দিষ্ট বন্দির নামও প্রকাশ করেছে।

অভিযোগের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা বিচার করে বিচারক সাফ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আফতাবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেল সুপারকে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে দাগি ও বিপজ্জনক বন্দিদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে অন্য কোনো সুরক্ষিত সেল বা ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করার কথাও বলেছেন বিচারক। বিচারাধীন কোনো বন্দির সুরক্ষার দায়িত্ব যে পুরোপুরি জেল কর্তৃপক্ষেরই, তা আদালতের তরফে কড়া ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশের একটি কপি মেহরৌলি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

ফিরে দেখা সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে মাসে দিল্লির মেহরৌলীতে নিজের ভাড়া ফ্ল্যাটে লিভ-ইন পার্টনার শ্রদ্ধা ওয়াকারকে নির্মমভাবে গলা টিপে খুন করার অভিযোগ ওঠে আফতাবের বিরুদ্ধে। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে অন্য এক যুবকের সঙ্গে শ্রদ্ধার কথা বলাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সে। এরপর অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় শ্রদ্ধার দেহ করাত, কাঁচি ও ছুরি দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখে এবং সুযোগ বুঝে তা মেহরৌলির বিভিন্ন জঙ্গলে ফেলে দেয়।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি পুলিশ আফতাবের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে চার্জশিট জমা দেয়। একই বছরের মে মাসে আদালত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করে। যদিও সে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছে। বর্তমানে মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবে উদ্ধার হওয়া হাড়, চোয়ালের অংশ, চুল ও রক্তের নমুনা আদালতের নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। জেলের ভেতর এখন খোদ এই নৃশংস খুনি নিজেই কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে দিন কাটাচ্ছে।