স্বামীর এই অদ্ভুত আচরণগুলো কি নজরে আসছে? হতে পারে এটি মারাত্মক নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার!

দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং মানসিক সমর্থন থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অনেক দম্পতিই অভিযোগ করেন যে তাঁদের জীবনসঙ্গী তাঁদের কথা শুনতে চান না এবং নিজের অহংকার ও আত্মকেন্দ্রিকতায় মগ্ন থাকেন। চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের আচরণের পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ (Narcissistic Personality Disorder)। একজন নার্সিসিস্টিক মানুষ কেবল নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন এবং অন্যের অনুভূতি বা কষ্টের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন হন। আপনার স্বামীও যদি এমন মানসিকতার শিকার হন, তবে তা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সময় থাকতেই জীবনসঙ্গীর আচরণে কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ দেখে তাঁকে চিনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নার্সিসিস্টিক বা আত্মরতিমূলক স্বভাবের স্বামীরা সাধারণত নিজেদের চারপাশের সবকিছুকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পছন্দ করেন। তাঁরা চান যে প্রত্যেকে কেবল তাঁদের প্রশংসা করুক এবং তাঁদের সিদ্ধান্তকে অন্ধের মতো মেনে নিক। এই ধরণের মানুষেরা অন্যকে ছোট করে কথা বলতে ভালোবাসেন এবং নিজের ভুল কখনোই স্বীকার করতে চান না। সম্পর্কের শুরুতে হয়তো এঁদের চতুর ও মিষ্টি কথায় বোঝা যায় না, কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের আসল রূপ উন্মোচিত হতে শুরু করে। নিচে এমন কিছু প্রধান লক্ষণ আলোচনা করা হলো, যা দেখে খুব সহজেই আপনি আপনার স্বামীর নার্সিসিস্টিক স্বভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।
প্রথমত, একজন নার্সিসিস্টিক স্বামী সবসময় নিজের কৃতিত্ব এবং গুরুত্ব জাহির করতে ব্যস্ত থাকেন। আপনি আপনার সারাদিনের ক্লান্তি বা কষ্টের কথা বললেও তিনি তা গুরুত্ব দেবেন না, বরং নিজের কাজের বড়াই করতে শুরু করবেন। দ্বিতীয়ত, এঁদের মধ্যে সহানুভূতির চরম অভাব দেখা যায়। আপনার কান্নাকাটি বা মানসিক অবসাদ তাঁদের মনে কোনো প্রভাব ফেলে না, উল্টে তাঁরা আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তৃতীয়ত, এই ধরণের মানুষেরা গ্যাসলাইটিং (Gaslighting) করতে ওস্তাদ হন। অর্থাৎ, পরিস্থিতি এমনভাবে ঘুরিয়ে দেবেন যাতে আপনার নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সিদ্ধান্তের ওপরই আপনার সন্দেহ তৈরি হয়। চতুর্থত, তাঁরা অত্যন্ত অধিকারবোধসম্পন্ন হন এবং আপনার স্বাধীনতা বা ব্যক্তিগত মতামতকে সম্মান করতে চান না। পঞ্চমত, গঠনমূলক সমালোচনা শুনলেই তাঁরা অত্যন্ত রেগে যান এবং প্রতিশোধমূলক আচরণ করতে শুরু করেন।
এই ধরনের বিষাক্ত সম্পর্কের বেড়াজাল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমে পরিস্থিতিটি উপলব্ধি করা দরকার। যদি আপনার স্বামীর মধ্যে এই লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, তবে তাঁকে কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে কাউন্সেলিংয়ের জন্য নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পাশাপাশি, নিজের মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সীমানা নির্ধারণ করুন এবং প্রয়োজনে পরিবারের নির্ভরযোগ্য সদস্যদের সাহায্য নিন। সচেতনতাই পারে আপনাকে একটি মানসিক নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে।