কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে ওজন বৃদ্ধি! শরীরে ফাইবারের অভাব হলে কী কী ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পড়েন আপনি?

আধুনিক ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আমাদের প্রতিদিনের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে ফাইবার বা তন্তুযুক্ত খাবারগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং ময়দার তৈরি নানা উপাদেয় খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক আমাদের অজান্তেই শরীরের বারোটা বাজাচ্ছে। পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ফাইবারের ঘাটতি দেখা দিলে হজমশক্তি থেকে শুরু করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যন্ত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই বুঝতে পারেন না যে তাঁদের শরীরে ঠিক কতখানি ফাইবারের প্রয়োজন। কিছু সূক্ষ্ম শারীরিক লক্ষণের মাধ্যমেই খুব সহজে বুঝে নেওয়া সম্ভব যে আপনার ডায়েটে ফাইবারের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে গেছে কি না।
শরীরে ফাইবারের ঘাটতি বোঝার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান লক্ষণ হলো দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এবং হজমের তীব্র গোলযোগ। ফাইবার আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে মসৃণ করতে জাদুর মতো কাজ করে। ডায়েটে পর্যাপ্ত ফাইবার না থাকলে অন্ত্রের গতিশীলতা ধীর হয়ে যায়, যার ফলে মল শক্ত হয়ে যায় এবং পেট পরিষ্কার হতে চায় না। এর পাশাপাশি প্রায়শই গ্যাসের সমস্যা, বমি ভাব এবং পেটে অস্বস্তি লেগেই থাকে। যদি আপনার প্রায়ই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে আপনার দৈনন্দিন খাবারে ফাইবারের ঘাটতি রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া এবং বারবার খিদে পাওয়া ফাইবারের অভাবের অন্যতম বড় লক্ষণ। ফাইবার আমাদের পেট অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফাইবারযুক্ত খাবারে প্রচুর পরিমাণে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু ডায়েটে ফাইবার কম থাকলে খাবার খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাত্ করে ওপর-নিচ হতে থাকে এবং বারবার অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছে জাগে। এর ফলে একদিকে যেমন শরীরে মেদ ও ওজন বাড়তে থাকে, তেমনই অন্যদিকে এনার্জির অভাবে সারা দিন শরীর ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে।
এই সমস্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ওটস, ডাল এবং বাদাম অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। হঠাৎ করে ফাইবারের পরিমাণ বাড়িয়ে না দিয়ে ধীরে ধীরে তা খাবারের সঙ্গে যুক্ত করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। সঠিক সময়ে খাদ্যাভ্যাসে এই ছোট পরিবর্তনটি এনে আপনি বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।