ঘুমাতে গেলেই কি চোখ বুজে আসে নাকি ছটফট করেন? জানুন কেন সবার ঘুমের ধরন এক হয় না!

বিছানায় মাথা ছোঁয়া মাত্রই কেউ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, আবার এমন অনেকে আছেন যাঁরা বালিশে মাথা গোঁজার পর দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করেন। ঘুমের এই তারতম্য বা ভিন্নতা নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ঘুমিয়ে পড়ার এই গতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ি, জীবনধারা এবং মস্তিষ্কের জটিল কার্যপ্রণালীর ওপর। কেউ খুব দ্রুত ঘুমাতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে ঘুম আসতে দীর্ঘ সময় লাগে—এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া।
মানুষের ঘুম এবং জাগরণের এই চক্রটি নিয়ন্ত্রিত হয় মূলত ‘সার্কেডিয়ান রিদম’ (Circadian Rhythm) নামক একটি জৈবিক ঘড়ির মাধ্যমে। আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলে অবস্থিত এই ঘড়িটি মূলত আলো এবং অন্ধকারের চক্রের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। যখন চারপাশ অন্ধকার হতে শুরু করে, তখন শরীর মেলাটোনিন (Melatonin) নামক হরমোন নিঃসরণ বাড়াতে শুরু করে, যা আমাদের ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করে। যাঁদের শরীরে এই হরমোনের নিঃসরণ দ্রুত ঘটে, তাঁরা বিছানায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্লান্ত বোধ করেন এবং দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন।
এর পাশাপাশি ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমও ঘুমের গতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে। সারাদিন ধরে যাঁরা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন বা ব্যায়াম করেন, তাঁদের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং গভীর ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়। এর বিপরীতে, যাঁদের জীবনযাত্রা মূলত আসীন বা সারাদিন স্ক্রিন বা কম্পিউটারের সামনে কাটে, তাঁদের মস্তিষ্ক অতিরিক্ত সজাগ ও উদ্দীপিত থাকে। বিছানায় যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো দেখার কারণে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে সহজে ঘুম আসতে চায় না।
এছাড়াও জেনেটিক্স বা জিনগত বৈশিষ্ট্যও ঘুমের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। কিছু মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই নির্দিষ্ট কিছু স্লিপ টাইপের (যেমন ‘মর্নিং লার্ক’ বা ‘নাইট আউল’) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তাই কারও দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া বা কারও দেরিতে ঘুমানো কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার এক অনন্য রূপ। নিজের ঘুমের ধরন বুঝে সঠিক রুটিন মেনে চললে এবং ঘুমের পরিবেশ উন্নত করলে অনিদ্রার সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।