বুকে তীব্র ব্যথা মানেই কি হার্ট অ্যাটাক? প্রথম ৫ মিনিটে ডাক্তার না পৌঁছালে কোন জীবনদায়ী পদক্ষেপ নেবেন?

হঠাৎ করে বুকে তীব্র ব্যথা, নিশ্বাস আটকে আসা কিংবা শরীর ঠান্ডা ঘামে ভিজে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা যে কারও মনে মারাত্মক ভয়ের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের (Heart Attack) মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ থেকে দশ মিনিট অত্যন্ত সংকটজনক ও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। চিকিৎসকদের মতে, এই ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর সঠিক সদ্ব্যবহার করতে পারলে এবং তাৎক্ষণিক কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এই সময়েই সাধারণ মানুষ এমন কিছু ভুল করে বসেন, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
হার্ট অ্যাটাক মূলত হার্টের পেশিতে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে হঠাৎ ব্লকেজ তৈরি হওয়ার কারণে ঘটে থাকে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের কোষগুলি পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং পুষ্টি পায় না, যার ফলে পেশীগুলি নষ্ট হতে শুরু করে। তাই প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত দ্রুত এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, কোনো অবস্থাতেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। আতঙ্কিত হলে হৃদস্পন্দন আরও দ্রুত হয়ে যায় এবং হার্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে।
রোগীর শরীরে এমন কোনো আঁটসাঁট পোশাক বা টাই পরে থাকলে অবিলম্বে তা আলগা বা খুলে দিতে হবে, যাতে তিনি সহজে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারেন। যদি রোগী ঘরের ভেতরে থাকেন, তবে জানালা ও দরজা খুলে দিয়ে পর্যাপ্ত খোলামেলা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
যদি রোগীর আগে থেকেই হৃদরোগের ইতিহাস থাকে এবং চিকিৎসকের পরামর্শমতো কোনো ওষুধ বা স্প্রে (যেমন ডিসপ্রিন বা নাইট্রোগ্লিসারিন) নির্ধারিত থাকে, তবে দেরি না করে তা অবিলম্বে রোগীকে সেবন করাতে হবে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অজানা ওষুধ বা জোড়াজবস্তি জল খাওয়ানোর চেষ্টা করা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।
অবস্থা সামান্য স্থিতিশীল মনে হলেও রোগীকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে বা হাঁটতে দেওয়া যাবে না। তাকে অবিলম্বে একটি আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসিয়ে বা শুইয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে কালক্ষেপ না করে দ্রুত স্থানীয় কোনো নির্ভরযোগ্য হাসপাতালে যোগাযোগের চেষ্টা করতে হবে বা অ্যাম্বুলেন্সে খবর দিতে হবে। এই সংকটময় মুহূর্তে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।