তিলপাড়া সেতুতে শুভেন্দুর আচমকা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’! মাঝপথে কনভয় থামিয়ে ফাঁস করলেন কোটি কোটি টাকার লুট?

বীরভূম জেলা সফরে এসে ফের স্বমেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রামপুরহাটের গণপুরে জনসভা শেষ করে সিউড়ি ফেরার পথে সিউড়ির তিলপাড়া ব্যারেজের উপর আচমকাই নিজের কনভয় থামিয়ে দেন তিনি। গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি ময়ূরাক্ষী নদীর বুকে অবৈধভাবে নির্মিত একটি সেতু দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে সরব হন তিনি। শুভেন্দুর সাফ কথা, “লুট কাকে বলে দেখুন! সরকারি অনুমতি বা টেন্ডার ছাড়াই নদীর বুক চিরে এই নির্মাণ চলছে। এর পেছনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও সরকারের হাত রয়েছে।”

এদিন রামপুরহাটের সভা থেকে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। অনুব্রত মণ্ডল থেকে শুরু করে কাজল শেখ—কাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। বিরোধী দলনেতা বলেন, “কেষ্ট-কাজল বাহিনী আসলে বালি চোর। বীরভূমে কয়লা ও বালি লুটের রাজত্ব চলছে। বিধানসভার উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে সাংসদ সামিরুল ইসলাম—সবাই দুর্নীতির ভাগীদার।” বগটুই কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ব্যাগ গুছিয়ে রাখুন, এবার আপনার জেলের যাওয়ার পালা।”

তিলপাড়া সেতুর বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর অজুহাতে টেন্ডার ছাড়াই অবৈধভাবে কংক্রিটের ব্লক বসিয়ে কাজ শুরু করেছিল ট্রাক মালিক সমিতি। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই কাজ চলছে বলে তাঁর অভিযোগ। এদিন তিনি রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন। সামিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একজন দালালের ২২ জন আত্মীয় চাকরি পেয়েছে, অথচ সাধারণ যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত।” সবশেষে তাঁর হুঙ্কার, “মে মাসে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সব লুটতরাজ এক নিমেষে বন্ধ করে দেব।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy