তিব্বত সীমান্তে মহাপ্রলয়! ৮০ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী নিখোঁজ হতেই চিনা প্রশাসনের কাছে হাত জোড় করে কী আবেদন করলেন সদগুরু?

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী গিরং শহরে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্কর হড়পা বানে কৈলাশ মানসরোবর ফেরত ৮০ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী নিখোঁজ হয়ে গেছেন। প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর ধ্বংসলীলায় স্বজনহারা পরিবারগুলোর মতোই গভীর যন্ত্রণায় ও উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন আধ্যাত্মিক গুরু এবং ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব। বৃহস্পতিবার চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি অত্যন্ত আবেগঘন আবেদন জানিয়ে তিনি অনুরোধ করেছেন যে, নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের সন্ধানে সহায়তা করতে যেন তাঁকে ও তাঁর একটি ছোট স্বেচ্ছাসেবী দলকে দ্রুত গিরং যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
সদগুরু জানান, তাঁর সংগঠনের একটি দলের সদস্যরা কৈলাশ যাত্রা সফলভাবে শেষ করে ফেরার পথে গিরংয়ের একটি ইমিগ্রেশন সেন্টারে অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই কোনো রকম পূর্বনির্ধারিত সতর্কতা বা পূর্বাভাস ছাড়াই জল, কাদা ও পাথরের একটি দানবীয় স্রোত গোটা ভবনে আছড়ে পড়ে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চরম হতাশা ও বেদনার সুরে সদগুরু বলেন, “আমাদের দল থেকে ৮০ জন মানুষকে হারানোর গভীর কষ্টে এই কথাগুলো লিখছি। বন্যার ভয়াবহতার পর থেকে তাঁদের বিষয়ে আর কোনো তথ্য বা যোগাযোগ আমরা পাচ্ছি না।” তিনি বর্তমানে তিব্বতের সাগা অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে উদ্ধারকাজে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বাধা তৈরি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বরং নিখোঁজদের কোনো সন্ধান বা সূত্র খুঁজে পেতে চিনা উদ্ধারকারী দলের পাশে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবারগুলোর মনে একটুখানি স্বস্তি ফেরানোই তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।
এদিকে, নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে সংঘটিত এক বিশাল হিমবাহ ধসের কারণেই মূলত এই আকস্মিক দুর্যোগের সূত্রপাত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই ধসের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যা প্রায় ৫.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের সমান কম্পন তৈরি করেছিল। সেই প্রকাণ্ড ভূমিধসের ফলে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত লেন্দে খোলা নদীতে গিয়ে আছড়ে পড়ে এবং নদী উপচে ধ্বংসের এক ভয়ংকর প্লাবন বইয়ে দেয়। গিরং অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৫৫৮ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে, সীমান্তের ওপারে নেপালে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৬৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং সাড়ে সাতশোরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী রয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকা হওয়ার কারণে বর্তমানে হেলিকপ্টারের সাহায্যে জোরকদমে উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে এবং আটকে পড়া মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। প্রিয়জনদের অক্ষত শরীরে ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ আশা আঁকড়ে ধরে এখন সীমান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বহু পরিবার।