আকাশছোঁয়া পেঁয়াজের দাম, মধ্যবিত্তের হেঁশেলে আগুন! এক লাফে কত বাড়ল পটল-বেগুন-সহ অন্যান্য সবজির দর?

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা দেশের সাধারণ মানুষ তথা মধ্যবিত্তের। চিনি থেকে শুরু করে শাক-সবজি, পেঁয়াজ থেকে ফলমূল—বাজারের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজনীয় জিনিসের দামেই বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে আচমকা পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

সাধারণত মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে বাংলায় বিপুল পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ফলে নাসিকের বাজারে দাম বাড়লেই তার সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়ে কলকাতার বাজারে। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে নাসিকে পেঁয়াজের কুইন্টাল প্রতি দর যেখানে প্রায় ২০০০ থেকে ২১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল, গত এক সপ্তাহের মধ্যে তা লাফিয়ে বেড়ে ৩৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কলকাতার শিয়ালদা কোলে মার্কেটেও। মাসখানেক আগে যে পেঁয়াজের পাইকারি দর ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা একলাফে দ্বিগুণ হয়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা প্রতি কেজিতে পৌঁছেছে।

আর খুচরো বাজারের ছবিটা আরও বেশি উদ্বেগের। বুধবার সকালে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী যদুবাবুর বাজারে পেঁয়াজের খুচরো দাম পৌঁছে গেছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। শুধু পেঁয়াজ একাই নয়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অন্যান্য সমস্ত শাক-সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও। বাজারদর অনুযায়ী বর্তমানে বেগুনের কেজি প্রতি দাম ১০০ টাকা, দেশি পটল ৮০ টাকা, করলা ও ঝিঙে ৮০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং বিন্সের দাম আকাশ ছুঁয়ে ১৫০ টাকা প্রতি কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, টমেটো ৪০ টাকা, নরমাল পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ক্যাপসিকাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং সজনে ডাঁটা ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কাঁচালঙ্কার দামও ১০০ টাকা প্রতি কেজিতে ঠেকেছে। মুদির বাজার দেখলে দেখা যাবে চিনি ৭৫ টাকা কেজি, সরষে তেল প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চিকেন ২২০ টাকা কেজি এবং ডিম প্রতি পিস ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধির এই ছ্যাঁকায় বাজারে ক্রেতাদের ক্রয়ের ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আগের তুলনায় সাধারণ মানুষ অনেকটাই কম পরিমাণে জিনিস কিনছেন। এক কেজির জায়গায় অনেকেই বাধ্য হয়ে হাফ কেজি বা প্রয়োজনমতো জিনিস কিনে কাজ চালাচ্ছেন। তবে লাগামছাড়া এই মূল্যবৃদ্ধিতে দ্রুত কড়া লাগাম টানতে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশের পর কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রধান বাজারে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন টাস্ক ফোর্স ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের শীর্ষ আধিকারিকরা। এর আগেও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে নবান্নের নির্দেশমতো বিভিন্ন বাজারে ঘুরে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেছিলেন মন্ত্রী ও বিধায়করা। তবে এতকিছুর পরেও বাজারদরের গ্রাফে কতটা স্বস্তি মিলবে, নাকি পকেটের চাপ আরও বাড়বে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।