“৫০-৭০ কোটির ম্যাচ নিয়ে তুলকালাম!”-ভারতীয় ফুটবলের মেগা পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিল কেপ ভের্দে?

যুবভারতীতে ঐতিহাসিক ভারত-ব্রাজ়িল ম্যাচের ঘোষণা হওয়ার পরই ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা পৌঁছেছিল তুঙ্গে। সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে আসে আরও এক চমকপ্রদ নাম—কেপ ভের্দে। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করা এই দলকে ঘিরেই নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন সমর্থকরা। এমনকি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন বা AIFF-এর পক্ষ থেকেও ব্রাজ়িলের পাশাপাশি কেপ ভের্দেকে ভারতে আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগে এবার বড়সড় ধাক্কা লাগার জোরাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ভারতে কি খেলতে আসবে না কেপ ভের্দে?
‘স্পোর্টস নাও’-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে এসে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর পথে হাঁটছে কেপ ভের্দে ফুটবল ফেডারেশন। এর ফলে তারকা গোলরক্ষক ভোজ়িনহাকে সরাসরি ভারতে খেলতে দেখার যে স্বপ্ন দেখছিলেন ফুটবল ভক্তরা, তা আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেল।
গোটা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, কেপ ভের্দে জাতীয় দলের ভারতে আসার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে অত্যন্ত ক্ষীণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তির দাবি, কেপ ভের্দের ভারতে আসার সম্ভাবনা বড়জোর ৫ শতাংশ এবং শেষ পর্যন্ত তাদের আসার কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না তিনি। এর মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আর্থিক ও বাণিজ্যিক মতপার্থক্য। জানা গেছে, বাণিজ্যিক দিক থেকে ভারত ও কেপ ভের্দে—উভয় পক্ষই একই ব্র্যাকেটে বা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দুই শিবিরের মধ্যে আর্থিক শর্ত নিয়ে টানাপোড়েন চলায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে রাতারাতি বড় কোনো অলৌকিক পরিবর্তন না ঘটলে কেপ ভের্দের ভারতে পা রাখার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
ব্রাজ়িল ও পানামা ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক
এদিকে, ব্রাজ়িলের বিরুদ্ধে ভারতের ফ্রেন্ডলি ম্যাচের দিনক্ষণ আগেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার বিখ্যাত যুবভারতী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। তার আগে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভারত ও পানামা দল আরও একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হবে। তবে পানামার বিরুদ্ধে ম্যাচের ভেন্যু বা ভেন্যু সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও পর্যন্ত করেনি AIFF।
অন্যদিকে, এত বড় বাজেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বাইচুং ভুটিয়ার মতো ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তিরা। দেশের ফুটবলের বর্তমান পরিকাঠামো, বিনিয়োগকারী ও স্পনসরের তীব্র অভাবের কথা তুলে ধরে বাইচুংদের প্রশ্ন—কেন শুধুমাত্র একটা ম্যাচের জন্য ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করা হবে? এমনকি এই ম্যাচ বয়কটের জোরালো দাবিও তুলেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার। সবমিলিয়ে, একদিকে বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে খেলার রোমাঞ্চ আর অন্যদিকে আর্থিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে ভারতীয় ফুটবল এখন চরম উত্তপ্ত।