বাংলাদেশে শুধু সরকারই বদলায়নি, বদলে গেল দেশের শাসনব্যবস্থার খোলনলচে। ১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক গণভোটে নাগরিকেরা ‘জুলাই সনদ’-এর সংস্কার প্রস্তাবে বিপুলভাবে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছেন। যার ফলে এবার ওপার বাংলায় তৈরি হতে চলেছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ। ভারতের রাজ্যসভার আদলে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের পথে এগোচ্ছে ঢাকা।
পাওয়ার শিফট: প্রধানমন্ত্রীর ডানা ছাঁটাই, শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি
নতুন সংবিধানে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কী কী বদল আসছে?
-
মেয়াদের সীমা: এখন থেকে বাংলাদেশে কেউ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এমনকি প্রধানমন্ত্রী একই সাথে দলীয় প্রধানের পদেও বসতে পারবেন না।
-
সাংসদদের স্বাধীনতা: সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ বদলে যাচ্ছে। এখন থেকে সাংসদরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও ভোট দিতে পারবেন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রে বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-
শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি: আগে রাষ্ট্রপতি ছিলেন ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’, কিন্তু এখন থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের একক ক্ষমতা থাকবে তাঁর হাতেই।
জরুরি অবস্থা ও নারী সংরক্ষণ: এক নজরে বড় বদল
| বিষয়ের নাম | নতুন নিয়ম |
| উচ্চকক্ষ (রাজ্যসভা) | ১০০ সদস্যের পরিষদ, সাংবিধানিক সংশোধনে এদের সম্মতি বাধ্যতামূলক। |
| ডেপুটি স্পিকার | সংসদীয় নিম্নকক্ষের ডেপুটি স্পিকার হতে হবে বিরোধী দল থেকে। |
| জরুরি অবস্থা | জারি করতে হলে মন্ত্রিসভা ও বিরোধী দলনেতার সম্মতি লাগবে। স্থগিত হবে না মৌলিক অধিকার। |
| নির্বাচন কমিশন | তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরছে এবং কমিশনকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হচ্ছে। |
বাস্তবায়নের রোডম্যাপ:
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গঠিত হবে ‘সাংবিধানিক সংশোধনী পরিষদ’। নির্বাচিত সাংসদরাই এর সদস্য হবেন। লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে এই সমস্ত সংস্কার কার্যকর করতে হবে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একে “নতুন বাংলাদেশের জন্ম” বলে অভিহিত করেছেন।