তারাপীঠ অগ্নিকাণ্ড: ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হোটেল মালিক, কাঠগড়ায় প্রশাসনের ভূমিকা

তারাপীঠের হোটেল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ। রামপুরহাটের তারাপীঠে একটি বিলাসবহুল হোটেলে ঘটে যাওয়া বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন পুণ্যার্থী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে এবং ইতিমধ্যে হোটেল মালিক ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুসহ আলিপুরদুয়ার ও মেঘালয়ের বাসিন্দারা রয়েছেন, যাঁদের পুড়ে মৃত্যু হয়েছে অত্যন্ত করুণভাবে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গতকাল হঠাৎই ওই হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে পুরো ভবনটিকে। অভিযোগ উঠেছে, হোটেলের ফায়ার অ্যালার্মটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিল এবং জরুরি নিষ্ক্রমণ পথ বা এমার্জেন্সি এক্সিটটিও বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর ফলে আগুন লাগার পর আতঙ্কিত পুণ্যার্থীরা বাইরে বের হওয়ার পথ পাননি। সিঁড়িতেই আটকে পড়ে পুড়ে মৃত্যু হয় অনেকের। প্রাণ বাঁচাতে বেশ কয়েকজন অতিথি হোটেলের কার্নিস ও গাছ বেয়ে নিচুতলায় নেমে কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ থানা থেকে সামান্য দূরে এই হোটেলটি অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনের নথিপত্র অনুযায়ী, হোটেলটিতে আদৌ কোনো অগ্নিনির্বাপণ বিধি মানা হয়েছিল কি না এবং কোনো সরকারি নজরদারি ছিল কি না, তা নিয়ে জোর তদন্ত শুরু হয়েছে। রামপুরহাটের এসডিপিও-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে, যারা এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সমস্ত গাফিলতি ও অপরাধমূলক অবহেলা খতিয়ে দেখছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন এবং তীব্র গাফিলতির একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ফের একবার মনে করিয়ে দিয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক স্টিফেন কোর্ট অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি।