তারাপীঠের অভিশপ্ত হোটেলে কীভাবে লাগলো আগুন? মালিক গ্রেফতার হতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

তারাপীঠের অভিশপ্ত হোটেল ‘বিদেশিনী’-তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে পুলিশের জালে মূল অভিযুক্ত। পালিয়েও শেষরক্ষা হলো না। ছেলের পর এবার গ্রেফতার তারাপীঠের আলোচিত হোটেলের মালিক প্রবীরকুমার পাল। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে আগেই দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তাঁর বাবা প্রবীর কুমার পাল। অবশেষে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সঠিক ছিল কি না এবং আইনসম্মত সমস্ত নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
শ্রাবণের শেষ সোমবার অর্থাৎ গত ১৭ অগাস্ট ভোররাতে তারাপীঠের হোটেল ‘বিদেশিনী’-তে আকস্মিক আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান গ্রাসে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে আট জন পুণ্যার্থী। আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অনেকে। ভয়াবহ এই ঘটনায় কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার দিনই তারাপীঠের ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ। হোটেল মালিকের ছেলে কল্যাণ পালকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার মূল অভিযুক্ত হোটেল মালিকের গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে তদন্তে নতুন মোড় এল।
দমকলের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুন লেগে গিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে পাঁচতলা পর্যন্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে একতলা এবং দোতলায় আগুনের তীব্রতা বেশি ছিল। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট আট জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত প্রত্যেকেই পুণ্যার্থী। তাঁদের মধ্যে রয়েছে দুই শিশু, এক জন মহিলা এবং পাঁচ জন পুরুষ। বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার তারাপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। পুলিশ ও দমকলের যৌথ উদ্যোগে হোটেল থেকে ২২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে নয় জন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। আহতদের মধ্যে অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উৎসবকে সামনে রেখে তারাপীঠে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বীরভূম জেলা প্রশাসন। তারাপীঠের সমস্ত হোটেল, লজ, গেস্ট হাউস, হোমস্টে এবং অন্যান্য আবাসিক প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপণ পরিকাঠামোর বিশেষ অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পরিদর্শন জরুরি ভিত্তিতে সম্পন্ন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে একটি বিস্তারিত সমন্বিত রিপোর্টে কোন কোন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে, কী কী ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে, কোথায় অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন এবং কী ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার—তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ধরনের ত্রুটি বা নিয়ম না মানার ঘটনা ধরা পড়লে আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।