তারাতলা ট্র্যাজেডি, ৪৫ ঘণ্টা পেরোতেই বাড়ছে লাশের সারি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কত প্রাণ?

তারাতলার বি২ ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের সেই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনও পাওয়া যাচ্ছে প্রাণের স্পন্দন খোঁজার নিরন্তর চেষ্টা। ভয়াবহ বিপর্যয়ের ৪৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, কংক্রিটের চাঁইয়ের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে কোনো খামতি রাখছে না প্রশাসন। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪। এসএসকেএম হাসপাতাল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ধারকাজে গতি আনতে মাঠে রেল বৃহস্পতিবার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজ কিছুটা থমকালেও, সেনার তৎপরতায় সারারাত তল্লাশি চলেছে। শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রেল। অক্সিকাটার মেশিন নিয়ে রেলের আধিকারিকরা কংক্রিটের ভারী দেওয়াল কাটার কাজ শুরু করেছেন। ১২২৬ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই গোডাউনের স্তূপের কোন কোণায় এখনও কেউ আটকে আছেন, সেটাই এখন উদ্ধারকারীদের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

নিখোঁজদের পরিবারে বাড়ছে আতঙ্ক এসএসকেএম হাসপাতালের বাইরে স্বজনহারা মানুষদের হাহাকার যেন থামছেই না। নিখোঁজ প্রিয়জনের সন্ধানে আধার কার্ড হাতে হাসপাতালের দরজায় ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন পরিবার পরিজনেরা। কিন্তু ৪৫ ঘণ্টা পার হওয়ায় আশার আলো ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে উৎকণ্ঠাও।

রেজিস্টারহীন গোডাউন: প্রশ্নের মুখে সুরক্ষা সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, গোডাউন নির্মাণের কাজে কতজন শ্রমিক নিযুক্ত ছিলেন বা দুর্ঘটনার দিন ঠিক কতজন ভেতরে ছিলেন, তার কোনো তথ্য বা রেজিস্টারই ছিল না। অর্থাৎ, দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন শ্রমিক নিখোঁজ, তার সঠিক হিসাবও নেই প্রশাসনের কাছে।

মৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রোমোটারও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে খিদিরপুরের বাসিন্দা তথা এই গোডাউনের অন্যতম প্রোমোটার আসগর হোসেইনের দেহ। এছাড়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সুন্দরবনের সাহিল সর্দার (১৭), বিহারের ঘি কুমার (১৭), হাসান ইমাম (৪৪) এবং আসানসোলের নবীন সিং (৪৪)। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন গণেশ কালিন্দী (৪৫), চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৯ জনের মধ্যে ৩-৪ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।

টানা বৃষ্টি আর প্রবল বজ্রপাতের মধ্যেও ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের স্পন্দনের খোঁজে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।