তারাতলার ধ্বংসস্তূপে প্রাণের স্পন্দন খুঁজছে অত্যাধুনিক ‘ইনফ্রারেড ক্যামেরা’, জানুন কী এই জাদুকরী প্রযুক্তি?

তারাতলার ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। এনডিআরএফের সেকেন্ড ব্যাটেলিয়ানের কমান্ডার মনীশ রঞ্জন জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ধ্বংসস্তূপের বেশ কিছু স্থানে ‘ব্ল্যাক হোল’ বা ‘ব্ল্যাক জোন’ তৈরি হয়েছে, যেখানে লোহার বিম ও কলামের জট এমনভাবে পাকিয়ে গেছে যে সেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যে ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ জীবিত নেই, তবুও উদ্ধারকারী দল ঝুঁকি নিতে নারাজ। কমান্ডার রঞ্জনের কথায়, “আমরা এখনো ১০০ শতাংশ নিশ্চিত নই। পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন চলবে।” আর সেই লক্ষ্যেই এবার মাঠে নেমেছে উদ্ধারকারীদের অন্যতম হাতিয়ার—ইনফ্রারেড ভিকটিম লোকেটার ক্যামেরা।

কীভাবে কাজ করে এই অত্যাধুনিক ক্যামেরা?
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের অবস্থান নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে এই ক্যামেরা এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করে। একটি লম্বা ও নমনীয় রডের মাথায় এই ক্যামেরা বসানো থাকে, যা ধ্বংসস্তূপের সরু ফাটল দিয়েও অনায়াসে ভেতরে ঢোকানো সম্ভব। জীবিত মানুষের শরীর থেকে অনবরত তাপ নির্গত হয়, আর এই ক্যামেরা সেই তাপ বা ‘হিট সিগনেচার’ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে কংক্রিটের স্তূপের নিচে কেউ থাকলে তা সহজেই উদ্ধারকারীদের নজরে আসে।

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর বহুমুখী ক্ষমতা। যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছানো অসম্ভব, সেই সম্পূর্ণ অন্ধকার এলাকাতেও এই ক্যামেরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারে। এতে থাকা নাইট-ভিশন এবং ইনফ্রারেড সেন্সর কন্ট্রোল রুমে ভিতরের স্পষ্ট ছবি পাঠাতে সক্ষম। শুধু ছবিই নয়, এই ক্যামেরায় রয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল মাইক্রোফোন ও স্পিকার। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ব্যক্তির ক্ষীণতম শব্দও উদ্ধারকারীরা শুনতে পান। একইসঙ্গে, বাইরে থেকে উদ্ধারকারীরা স্পিকারের মাধ্যমে আটকে থাকা ব্যক্তির সাথে কথা বলে বা বার্তা পাঠিয়ে আশ্বস্ত করতে পারেন।

শুধু ক্যামেরা নয়, নিখুঁত নিশ্চিত হওয়ার জন্য উদ্ধারকারীরা থার্মাল স্ক্যানিংয়ের সাহায্যও নিচ্ছেন। গত কয়েক দিনের নিরলস চেষ্টায় উদ্ধারকাজ কিছুটা গতি পেলেও, ১৬ জনের মৃত্যু এবং আহতের সংখ্যা এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতাকেই তুলে ধরছে। হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন অনেকে। এখন পুরো দেশ তাকিয়ে আছে এনডিআরএফের এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দিকে—যদি ধ্বংসস্তূপের অতল গভীর থেকে কোনো অলৌকিক সংবাদ ভেসে আসে।