১.৫ কোটির জালিয়াতি! আইনি জালে বলিভৌডের জনপ্রিয় ছবি ‘ধামাল’-এর পরিচালক ও প্রযোজক

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও কালজয়ী কমেডি ছবি ‘ধামাল’-এর স্বত্ব বা রাইটস বিক্রি নিয়ে বড়সড় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন ছবিটির পরিচালক ইন্দ্র কুমার এবং প্রযোজক অশোক ঠাকেরিয়া। ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ব্যবসাসফল ছবিটির স্বত্ব নিজের দখলে রাখার নামে প্রায় ১.৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। মুম্বইয়ের এক প্রথম সারির চলচ্চিত্র পরিবেশক সংস্থার মালিকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ অগস্ট আম্বোলি থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে বি-টাউনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগকারী বিকাশ বলদেবরাজ সাহনি মুম্বইয়ের সুপরিচিত চলচ্চিত্র পরিবেশনা সংস্থা ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’-এর কর্ণধার। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০১৯ সালে অশোক ঠাকেরিয়ার প্রযোজনা সংস্থা ‘মারুতি ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে তাঁর কোম্পানি। সেই চুক্তিপত্রে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ‘ধামাল’ ছবির স্থায়ী বিশ্বব্যাপী পরিবেশনা, ডিজিটাল এবং কপিরাইট স্বত্ব ১.৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে গ্র্যান্ড মাস্টার সংস্থাকে হস্তান্তর করা হবে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ছবির কাজ এগোতে থাকে।

কিন্তু আসল সমস্যা শুরু হয় পরবর্তীতে। বিকাশের জোরালো দাবি, চুক্তির সময় প্রযোজক পক্ষ তাঁকে স্পষ্টভাবে আশ্বস্ত করেছিল যে এই ছবির স্বত্ব এর আগে অন্য কোনো সংস্থাকে বিক্রি করা হয়নি। অথচ কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন যে, গ্র্যান্ড মাস্টারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের চার বছর আগেই অর্থাৎ ২০১৫ সালেই ছবিটির লাইফটাইম ওটিটি এবং ডিজিটাল স্বত্ব নামী প্রতিষ্ঠান ‘শেমারু এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’-কে পাকাপাকিভাবে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ একই ছবির ডিজিটাল স্বত্ব একাধিক জায়গায় বিক্রি করার ছক কষা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রযোজক অশোক ঠাকেরিয়া স্বয়ং গ্র্যান্ড মাস্টারের দফতরে উপস্থিত হয়ে শেমারুর সঙ্গে আগের চুক্তির কথা স্বীকার করেন। এরপরই ছবির স্বত্ব নিয়ে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর মারুতি ইন্টারন্যাশনাল ও শেমারুর মধ্যে আরও একটি সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার ফলে প্রযোজকের হাতে শুধুমাত্র একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলের স্বত্ব ছাড়া আর কিচ্ছু থাকে না বলে দাবি অভিযোগকারীর।

এদিকে নিজেদের আইনি অবস্থান শক্ত রাখতে ২০২০ সালের ২০ মার্চ গ্র্যান্ড মাস্টার সংস্থাটি ‘ধামাল’-এর সিনেমাটোগ্রাফ কপিরাইটের জন্য আবেদন করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল কপিরাইট দফতর থেকে সংস্থাটিকে CF-5230/2023 নম্বরের সরকারি শংসাপত্রও প্রদান করা হয়। বিকাশের দাবি, বর্তমানে আইনগতভাবে তাঁদের হাতেই সরকারি কপিরাইট শংসাপত্র এবং ছবিটির মূল নেগেটিভ সুরক্ষিত রয়েছে। তবে স্বত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী জটিলতার জেরে তাঁদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ছবি নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হলেও স্বত্বের মালিকানা সংক্রান্ত ধোঁয়াশার কারণে সেই সমস্ত লাভজনক চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। এর ফলে তাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

আইনি লড়াইয়ে নামার আগে ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি অভিযুক্ত প্রযোজক ও পরিচালককে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন বিকাশ। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পুলিশের দারস্থ হন। তাঁর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আম্বোলি থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮(৪) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, যা মূলত বড় ধরণের প্রতারণা এবং অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই মারুতি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই এই জটিলতার সমাধান করা হবে। পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।