তাক লাগাতে আসছে নতুন প্রজন্মের হুন্ডাই ক্রেটা! বদলে যাওয়া লুক আর আধুনিক ফিচারে কাঁপবে বাজার!

ভারতের মিড-সাইজ এসইউভি বাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম হুন্ডাই ক্রেটা। দেশজুড়ে এই গাড়ির তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। আর এবার ক্রেতাদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে হুন্ডাই তাদের এই জনপ্রিয় এসইউভি-র পরবর্তী প্রজন্মের মডেল নিয়ে কাজ শুরু করেছে। একাধিক আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই নতুন ক্রেটার টেস্টিং চলতে দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, একেবারে নতুন অবতারে সাজানো এই পরবর্তী প্রজন্মের ক্রেটা ২০২৭ সালে ভারতীয় বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করতে পারে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয় বাজারে একাধিক নতুন গাড়ি লঞ্চ করার যে বড় পরিকল্পনা হুন্ডাই নিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে এই নতুন জেনারেশনের ক্রেটা। নতুন মডেলে এক্সটিরিয়র ডিজাইন থেকে শুরু করে কেবিন এবং ইঞ্জিন অপশনে আসছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন।

নতুন ক্রেটার প্রকাশিত স্পাই শট এবং বিভিন্ন গ্লোবাল টেস্ট ড্রাইভের ছবি থেকে এর ডিজাইনে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। গাড়িটির সামনের ও পেছনের বাম্পারে আনা হচ্ছে নতুন কাটিং এবং স্টাইলিং। এছাড়া হেডল্যাম্প এবং টেইলল্যাম্পের ডিজাইনেও সম্পূর্ণ নতুন আধুনিক ছোঁয়া দেখতে পাওয়া যাবে। এসইউভিটিকে আরও বেশি মাসকুলার ও আকর্ষণীয় লুক দিতে এতে যুক্ত করা হচ্ছে প্রিমিয়াম ডিজাইনের নতুন অ্যালয় হুইল এবং স্লিক ওআরভিএম (ORVM)। সার্বিকভাবে বর্তমান মডেলের তুলনায় নতুন ক্রেটা দেখতে আরও বেশি প্রিমিয়াম, আক্রমণাত্মক এবং আকর্ষণীয় হবে।

বাইরের রূপ বদলের পাশাপাশি কেবিনের অন্দরেও আসছে বিরাট পরিবর্তন। নতুন ক্রেতার কেবিনটি বর্তমান মডেলের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধুনিক হতে চলেছে। এতে থাকছে একেবারে নতুন ডিজাইনের ড্যাশবোর্ড, আরামদায়ক আপডেটেড ফ্রন্ট সিট এবং নতুন প্রিমিয়াম আপহোলস্ট্রি। কেবিনের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে একটি বিশাল কার্ভড স্ক্রিন সেটআপ, যা এই এসইউভিকে এক লাফে অনেক বেশি লাক্সারি লুক দেবে। পাশাপাশি, সামনের সারির যাত্রীদের সর্বোচ্চ আরাম নিশ্চিত করতে এতে ‘বস মোড’ বা এয়ার কন্ডিশনিংয়ের উন্নত ফিচারও যুক্ত করা হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। ভারতের বাজারে এটিই প্রথম হুন্ডাইয়ের নতুন ‘প্লিওস টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম’ নিয়ে আসতে পারে, যা অত্যন্ত উন্নত ইউজার ইন্টারফেস এবং লেটেস্ট কানেক্টিভিটি ফিচার প্রদান করবে।

পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকতে পারে হাইব্রিড ইঞ্জিনের সংযোজন। যদিও হুন্ডাই এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইঞ্জিন সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বর্তমান মডেলের নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিনগুলির পাশাপাশি এতে একটি নতুন হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন যুক্ত করা হতে পারে। এই হাইব্রিড ইঞ্জিন শহরের রাস্তায় অবিশ্বাস্য মাইলেজ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দুর্দান্ত সুবিধা দেবে। এমনকি এই ডিজাইন ও টেকনোলজি প্ল্যাটফর্মটি ভবিষ্যতে কোম্পানির ইলেকট্রিক সংস্করণেও ব্যবহার করা হতে পারে। নিসান টেকটন এবং টাটা সিয়েরা-র মতো হেভিওয়েট প্রতিযোগীদের কড়া টক্কর দিতে এই মডেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু ক্রেতাই নয়, এর পাশাপাশি হুন্ডাই তাদের জনপ্রিয় গ্র্যান্ড আই১০ নিওস (Grand i10 Nios)-এর নতুন প্রজন্ম আনার কাজও সমান্তরালভাবে চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সিএনজি এবং এএমটি (AMT)-এর যুগলবন্দী দেখার মতো এক বড় চমক হতে পারে।