মুম্বইয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এল। ২৭ এপ্রিলের সেই অভিশপ্ত রাতে আবদুল্লা ডোকাদিয়া (৪০), তাঁর স্ত্রী নাসিম (৩৫) এবং তাঁদের দুই নাবালিকা কন্যা আয়েশা ও জয়নাবের মর্মান্তিক পরিণতিতে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। প্রাথমিক পর্যায়ে এই মৃত্যুর জন্য ‘তরমুজ’ খেয়ে বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হলেও, সাম্প্রতিক ফরেনসিক রিপোর্ট এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভুল ভাঙল তদন্তকারীদের: ফল নয়, সন্দেহ অন্য কোথাও
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল বিরিয়ানি এবং তারপর তরমুজ খাওয়ার মাধ্যমে। পরিবারের চারজনই অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং দ্রুত প্রাণ হারালে জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার থেকে তরমুজ কেনা কার্যত বন্ধ করে দেন সাধারণ মানুষ, যার ফলে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন ফল বিক্রেতারা। তবে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওই পরিবারের খাওয়া তরমুজে কোনও বিষাক্ত রাসায়নিক বা ক্ষতিকারক রঙের উপস্থিতি মেলেনি। এমনকি আকার বা মিষ্টত্ব বাড়ানোর জন্য কোনও কৃত্রিম উপাদানও সেখানে ছিল না। ফলে তরমুজ নিয়ে তৈরি হওয়া মিথ্যে আতঙ্ক এখন স্তিমিত।
মৃতদেহে মিলল ‘মরফিন’, সবুজ হয়ে গিয়েছিল দেহাংশ!
এই ঘটনার সবচেয়ে আতঙ্কিত করে তোলার মতো তথ্যটি সামনে এসেছে ময়নাতদন্তের পর। মৃত চারজনের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ— বিশেষ করে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং অন্ত্র সবুজাভ হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং তীব্র কোনও রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থের প্রতিক্রিয়াই এমন ঘটাতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষায় মৃতদের শরীরে পাওয়া গিয়েছে উচ্চমাত্রার ‘মরফিন’, যা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যথানাশক এবং মাদক হিসেবে পরিচিত। সাধারণ খাবার থেকে শরীরে এত পরিমাণ মরফিন আসা অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিষাক্ত রাসায়নিক
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এই মরফিন পরিবারের সদস্যদের শরীরে প্রবেশ করল কীভাবে? এটি কি বিরিয়ানির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল, নাকি এর পিছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও ষড়যন্ত্র? ব্যাকটেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ নাকি পরিকল্পিত বিষপ্রয়োগ— তা নিশ্চিত করতে বিশদ ফরেনসিক ল্যাবরেটরি (FSL) রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। আপাতত তরমুজের কলঙ্ক ঘুচলেও, মুম্বইয়ের এই পরিবারের মৃত্যুরহস্য এখন এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।





