তন্ত্রপীঠ তারাপীঠে মা তারার ‘কালী’ রূপ! কী বিশেষত্ব আজকের নিশিপূজার? অমাবস্যা তিথির মাহাত্ম্য জানুন

তন্ত্রপীঠ তারাপীঠে (Tarapith) কালীপূজার দিনটি ভক্তদের জন্য এক বিশেষ মাহাত্ম্য বহন করে। সারা বছর এই সিদ্ধপীঠে ভক্তদের ভিড় থাকলেও, কালীপূজার দিনে মা তারার (Maa Tara) বিশেষ আরাধনা দেখতে লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে। এদিন মা তারার অঙ্গে কালীর আরাধনা (Kali Puja) হয়, যা তারাপীঠের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

দিনের বেলার রাজবেশ ও ভোগ:

ভোরের পুজো: এদিন ভোরে মাকে স্নান করানোর পর দেবীর শিলাব্রহ্মময়ী মূর্তিকে রাজবেশে সাজানো হয়। চুনরি পরিয়ে সিঙ্গারবেশে সাজিয়ে তোলা হয় মা-কে। এরপর পঞ্চ উপাচারে মঙ্গলারতি ও নিত্যপুজো হয়।

শীতল ভোগ: ভোরে মাকে শীতল ভোগ হিসাবে ছোলা, ফল, মুড়কি, সরবত, মিষ্টি, ফল ও মিছরি ভেজানো জল নিবেদন করা হয়।

দুপুরের অন্নভোগ: দুপুরবেলা কিছুক্ষণের জন্য গর্ভগৃহ বন্ধ রেখে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। কালীপুজোর দিনে মায়ের ভোগে থাকে খিচুড়ি, পোলাও, সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, পায়েস, চাটনি এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্ব হল পোড়া শোল মাছ মাখা। এছাড়া ছাগ বলির মাংস দিয়েও মায়ের ভোগ হয়।

সন্ধ্যা ও নিশিপূজার বিশেষ আয়োজন:

সারাদিন ভক্তদের আনাগোনা চললেও সন্ধ্যারতির সময় কার্যত তিল ধারণের জায়গা থাকে না।

সন্ধ্যারতি ও ভোগ: এদিন সন্ধ্যাবেলা মা তারাকে বেনারসি শাড়িতে রাজবেশে সাজানো হয়। লুচি, আলুভাজা, সুজি, পাঁচরকম ফল, পাঁচরকম মিষ্টি ও ক্ষীর ভোগ নিবেদন করা হয়।

নিশিকালে কালীর আরাধনা: এদিন দুপুর ২টো ৫৭ মিনিটের পর থেকে অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে। যেহেতু কালীপূজা নিশিকালে (রাতে) হয়, তাই রাত ১০টা-১০:৩০ টার পর তারাপীঠের মা তারাকে কালীরূপে পুজো করা হবে।

রাতের ভোগ: রাতে মায়ের ভোগে থাকে খিচুড়ি, শোল মাছ পোড়া, ছাগ মাংস, পাঁচরকম তরকারি এবং কারণবারি।

শ্মশানে তন্ত্র সাধনা:

কালীপূজার এই বিশেষ রাতে তন্ত্রসাধকদের আগমন ঘটে তারাপীঠ মহাশ্মশানে। সন্ধ্যা নামতেই মহাশ্মশানে শয়ে শয়ে হোমকুণ্ড জ্বলে ওঠে। মা তারার সিদ্ধি লাভের আশায় তন্ত্র সাধকরা গভীর রাত পর্যন্ত তন্ত্র সাধনায় মেতে ওঠেন। ভক্তদের ভিড় আর সাধকদের সাধনায় এদিন তারাপীঠ এক অন্য মহাজাগতিক রূপ ধারণ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy