২০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে বড় ধাক্কা! স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট, পকেট কি ফাঁকা হবে আপনার?

ইউপিআই (UPI) ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা MDR চালুর সিদ্ধান্তে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল না সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-র কাছে বিস্তারিত জবাব চেয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
কারা পড়বেন এই নিয়মের আওতায়? নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পার্সন-টু-মার্চেন্ট বা পিটুএম (P2M) ইউপিআই লেনদেনে ২,০০০ টাকার বেশি অর্থের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ MDR ধার্য করা হবে। তবে ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনে এই চার্জ সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৩,০০০ টাকার লেনদেনে MDR হবে ১২ টাকা এবং ৫০,০০০ টাকার লেনদেনে হবে ২০০ টাকা। ১ লক্ষ টাকার লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হিসেবে ৪০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও সর্বোচ্চ সীমার কারণে তা ৩০০ টাকাই হবে।
গ্রাহকদের কি অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এর ফলে কি সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা কাটবে? সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন MDR ব্যবস্থা চালু হলেও সাধারণ গ্রাহক যখন দোকানে ইউপিআই-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করবেন, তখন তাঁদের অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি কোনো অতিরিক্ত চার্জ কাটা হবে না। অর্থাৎ ৩,০০০ টাকার পেমেন্টে গ্রাহককে আলাদা করে কোনো বাড়তি টাকা দিতে হবে না। তবে এই চার্জ যাতে ব্যবসায়ীরা ঘুরপথে গ্রাহকদের ওপর চাপাতে না পারেন, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
কাদের জন্য ছাড় রয়েছে?
ছোট অঙ্কের পেমেন্ট: ২,০০০ টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট পেমেন্ট এই নতুন MDR কাঠামোর সম্পূর্ণ বাইরে থাকবে। ফলে ৫০০ বা ১,০০০ টাকার লেনদেনে কোনো চার্জ লাগবে না।
পিটুএম ও পিটুপি লেনদেন: একজন ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা অর্থাৎ পার্সন-টু-পার্সন (P2P) লেনদেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আগের মতোই জারি থাকবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: মাসে ইউপিআই-এর মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেমেন্ট গ্রহণকারী নির্দিষ্ট ছোট মার্চেন্ট বা ব্যবসায়ীদের এই MDR চার্জ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে কী হল? নতুন এই MDR কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির পর আপাতত এই ব্যবস্থায় কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি। আদালত কেন্দ্র, আরবিআই এবং এনপিসিআই-কে নোটিস পাঠিয়ে এর আইনি ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি জানতে চেয়েছে। ফলে আপাতত ১৫ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম চালুর পথ পরিষ্কার থাকলেও, আইনি লড়াইয়ের জেরে পুরো বিষয়টি নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে।