‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে রাজারহাটের বাসিন্দার থেকে ১.০৪ কোটি টাকা প্রতারণা! মাইসুরু থেকে ধৃত ২

নিজেকে পুলিশ বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিক সাজিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখিয়ে রাজারহাটের এক বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় এক কোটি চার লক্ষ সত্তর হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল। বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ তদন্তে নেমে মূল চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুই অভিযুক্ত নবীন আর (৩৫) ও ইন্দ্রধনুষ জে (৩৩)-কে কর্ণাটকের মাইসুরু থেকে গ্রেফতার করেছে।
নারায়ণপুর থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজারহাটের সিখের বাগান এলাকার বাসিন্দা সুনীতকুমার রায় চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর একটি প্রতারণামূলক ফোন পান। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, সুনীত আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ‘হিউম্যান ট্র্যাফিকিং’-এর মতো গুরুতর মামলা রুজু হয়েছে।
প্রতারণার কৌশল:
অভিযুক্তরা সুনীতকে আরও ভয় দেখাতে অবিলম্বে তাঁকে একটি ভিডিয়ো কলেও যুক্ত করে। সেখানে নকল কোর্টরুম ও পুলিশি সাজসজ্জা দেখিয়ে তাঁকে বলা হয়, তাঁর নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। মানসিকভাবে চাপে পড়ে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুনীতকুমার রায় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন।
ঘটনায় সুনীতকুমার রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে নারায়ণপুর থানায় মামলা রুজু হয়। এরপরই বিধাননগর কমিশনারেটের একটি বিশেষ দল মাইসুরুতে অভিযান চালিয়ে নরসিমহা রাজা মহল্লার বাসিন্দা দুই মূল অভিযুক্ত নবীন আর এবং ইন্দ্রধনুষ জে-কে গ্রেফতার করে।
মাইসুরুর আদালতে পেশ করার পর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের রাজ্যে এনে ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
পুলিশি সতর্কতা:
বিধাননগর কমিশনারেটের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণায় সাধারণত তিনটি ধাপ থাকে—প্রথমে ভয় দেখানো, তারপর নকল অফিসার বা আদালতের পরিবেশ তৈরি করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি এবং শেষে কেস মেটানোর নামে টাকা আদায়।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, কোনও সরকারি সংস্থা কখনও ফোন বা ভিডিয়ো কলে কাউকে ‘ডিজিটালি গ্রেফতার’ করে না। এমন কোনও ফোন এলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।